প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা করে সমাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে হলে তাদের সঠিক পরিসংখ্যান জানা প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রতিবন্ধী জরিপ সম্পর্কিত কর্মশালার বক্তারা। তারা বলেন, সঠিক পরিসংখ্যানের অভাবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে যেমন কোটা পূরণ হয় না, তেমনি প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেয়া যায় না বলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারা। তাই ‘প্রতিবন্ধী জরিপে অংশ নিন, দিনবদলের সুযোগ দিন’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে প্রতিবন্ধী জরিপের কাজ। বৃহস্পতিবার সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত জরিপ বিষয়ে জাতীয় কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম।
কর্মশালায় আরও জানান হয়, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে জরিপের আওতায় প্রত্যেকটি বাড়ি পরিদর্শনের কাজ শেষ হবে। ১ জুন থেকে এই জরিপের কাজ শুরু হয়েছে। যে বাড়িতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে, সেই বাড়িতে টিক চিহ্ন এবং না থাকলে ক্রস চিহ্ন দেয়া হচ্ছে। এতে কোনো বাড়ি বাদ পড়ার সম্ভাবনা নেই। জাতীয় পর্যায়ে জরিপ পরিচালনার আগে দেশের ১২টি উপজেলার ১৫৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একটি পাইলট জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। বর্তমানে এই ১২টি উপজেলা ছাড়া দেশের অন্যান্য উপজেলায় এ জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপে সব ধরনের প্রতিবন্ধী যাতে অংশ নেয়ার সুযোগ পায় তার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান হয়।
কর্মশালার প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ বলেন, অনেকে এখনও প্রতিবন্ধী শিশুদের লুকিয়ে রাখেন। তাই তারা সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়। বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, জরিপে প্রত্যেকটি বাড়ি পরিদর্শন করে তাদের সংখ্যা, ধরন, কি সমস্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ সার্বিক বিষয় যেভাবে তুলে আনা হচ্ছে তাতে কার জন্য কি ধরনের সহযোগিতা বা কার কেমন কাজ দরকার তা জনা সম্ভব হচ্ছে। এ জরিপে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিকভাবে সহায়তার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
কর্মশালায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের সুযোগদানের আহবান জানান। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীর, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি রজব আলী খান নজিব প্রমুখ। সমাজে প্রতিবন্ধীদের নানা প্রকার বৈষম্যের চিত্র নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
