নারীদের বাসে যাতায়াত

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২১:৪৮
“কোন কালে একা হয়নিক জয়ী পুরুষের তরবারী, প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয়লক্ষ্মী নারী” নজরুল নারীকে পুরুষের পাশাপাশি রেখেছেন, সভ্যতার কল্যাণে নারীর অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। নারীকে বিজয়লক্ষ্মী নাই ধরলাম। সেখানে আমরা কতটুকু পেরেছি? হাজারো রকম বৈষম্যের শিকার এই নারী। নারীর বিষয়গুলো স্পর্শকাতর—সব বলতে চাইলেও বলা যায় না। নারীর একটি বৈষম্যের কথা আজ বলবো। আমাদের পাবলিক বাসের কথা বলি। পাবলিক বাসে সামনে চালকের পাশেই রেখেছে মহিলাদের জন্য ৪টি সিট। একটি বাসে যেখানে ৪০ জন পুরুষ যাত্রী সেখানে মহিলা ৪ জন বসে যেতে পারে! কাউন্টার বাসের ক্ষেত্রে সামনের ৩টি সারি শিশু, মহিলা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য রাখা হয়েছে। ৩টি সারিতে ৯ জন যেতে পারলেও শুধু মহিলার জন্য বরাদ্দ ৩টি সিট। আর বাকি ৫০টি আসন পুরুষের জন্য। এটা কি বৈষম্য নয়? কিন্তু এত বড় একটা বিষয় যা প্রতিদিনই ঘটছে তা কিন্তু কারো চোখে পড়ে না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় অর্ধেক নারী লোকসংখ্যার দিক দিয়ে। নারীদের প্রতিদিন ছুটতে হয় জীবিকার তাগিদে, অফিস-আদালতে, গার্মেন্টসে, বাচ্চাকে স্কুল-কলেজে দিতে মহিলারা ছুটে যান, পুরুষের কাজের সহযোগিতার করার জন্যই তাঁরা বের হন। প্রশ্ন হচ্ছে আমরা নারী-পুরুষের সমান অধিকার বলে এতটা বছর চিত্কার করলাম, এত শোভাযাত্রা, মিটিং-মিছিল করলাম। এর ফলাফল কী হলো? আমি বলবো রেজাল্ট জিরো। সেদিন কাকরাইল মোড় থেকে বাসে উঠবো বলে দাঁড়াই। প্রচণ্ড ভিড় ভাবলাম এককাপ চা খাই। চা খাই আর বাসে ওঠার দৃশ্য দেখি। বিশ কি বাইশ বছরের এক তরুণী। জিন্স প্যান্ট আর ফতুয়া পরা। বেশ স্মার্ট। মেয়েটি বারবার চেষ্টা করে বাসে ওঠার। হেলপার তাকে ধাক্কা দেয় হাত ধরে আর বলে সিট নেই। দু-তিনটি বাস এভাবেই চলে গেলো। ঠিক ঐ মুহূর্তে মনে পড়ে আমার স্ত্রীর কথা। প্রতিদিন তুরাগ বাসে উঠে মুগদা যায় শিক্ষকতার জন্য। এভাবেই তো যুদ্ধ করে বাসে ওঠে। মাঝে মাঝে সে গল্প করে হেলপার, কনডাকটররা কত খারাপ। সিট নেই অজুহাতে বাসে উঠতে দেয় না। বাসে উঠে সে প্রতিবাদ করে। পুরুষ যাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে যেতে হয় মাঝে মাঝে। পুরুষদের সম্পর্কে তার নালিশ হাজারটা। আমি অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়ার ভান করি। শত হলেও আমি পুরুষ। যা হোক মেয়েটার কাছে গিয়ে বললাম— আসুন কে বাসে উঠতে দেয় না দেখি। রামপুরাগামী সুপ্রভাত বাস আসতেই আমি বাসে উঠি এবং দরজার সামনে থেকে হেলপারকে ধাক্কা দেই। মেয়েটিকে ওঠার জায়গা করে দিলাম। মেয়েটির শরীর স্পর্শ করে হেলপার নামিয়ে দিতে চায়। আমি হেলপারের হাত টান দিয়ে সরালাম। মেয়েটি বাসে উঠলো। শুরু হলো তুমুল ঝগড়া। কেন উঠলো ? মেয়েটি শক্ত জবাব দেয়। সিট নেই তাতে কী হয়েছে? দাঁড়িয়ে যাবো। অন্য পুরুষ যাত্রীরা কোনো কথা বললো না। মেয়েটি যেন বাসে উঠে কোনো পাপ করেছে। পুরুষ ও মহিলাদের যদি একসঙ্গে বাসে চড়া নিষেধ হয় তাহলেই বা মহিলাদের জন্য আলাদা বাস নেই কেন? এদিকে মহিলাদের নিয়ে টানা-হেঁচড়া করে হেলপার, কনডাকটর ও ড্রাইভার। ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দিয়ে বলে সিট নেই। এরই বা কী হবে? আমরা এসব দৃশ্য দেখে বোবা হয়ে থাকি। ঢাকা