পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র) ও হযরত শাহ পরান (র)-এর মাজারসহ ৩৬০ আউলিয়ার মাজার। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিও এই সিলেট। এখানে আরো রয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত হাওর, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনা, ঢেউ খেলানো সবুজ চা-বাগান ও শাহী ঈদগাহসহ কত কী। মুরারী চাঁদ কলেজ আর মদন মোহন কলেজ দেখে ছুটে যেতে মন চায় চা-বাগানে। আহা এমন রূপে মুগ্ধ হয়ে কতবারই না গিয়েছি সিলেট এবং এর আশেপাশের জাফলং, মাধবকুণ্ড, জৈন্তাপুর, ভাদেশ্বরে। হয়রত শাহ জালাল (র) পুণ্যভূমি সিলেট চায়ের দেশ হিসেবে দেশ-বিদেশের ট্যুরিস্টদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পায় সেই ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই। হাজারো পর্যটক প্রতিদিন ছুটে যান সিলেটে। বহু বছর পরে সম্প্রতি (২৭ মে ২০১৩) সিলেটে ভ্রমণে যাওয়ার জন্য একটি নামিদামি পরিবহনের বাসে উঠলাম। সকাল সাড়ে সাতটায় বাসটি ছেড়ে বিকেল সাড়ে তিনটার পরে সিলেটের কদমতলীতে এসে পৌঁছলো। অর্থাত্ ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছতে ৮ ঘণ্টা সময় লাগলো। অথচ শুনেছিলাম আজকাল নাকি ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছতে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। এ অবস্থায় হতাশ হয়ে ভাবলাম, ফিরবার সময় না হয় ট্রেনে যাবো। সিলেট রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট নিতে গিয়ে শুনি বিকেল তিনটার ট্রেনটি (পারাবাত) তখনও ছাড়েনি। অথচ তখন বিকেল ৪টা প্রায়।
এবার সিলেট ভ্রমণে গিয়ে দেখলাম সময়মতো বাস পৌঁছে না গন্তব্যস্থলে, ট্রেনও ছাড়ে না যথাসময়ে। এ অবস্থা দেখে হতাশই হলাম। এ দিকে রিকশা ধরে হোটেলে যেতে চাইলে দেখি কোনো রিকশাই যেতে চাচ্ছে না। মিনিট বিশেক অপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে রওয়ানা দিলাম কিন ব্রিজের দিকে। ব্রিজের কাছাকাছি এসে রিকশা পেলাম। এক হোটেলে এসে শুনলাম, দুজন থাকতে হলে ভাড়া ১৩০০ টাকা, তবে ১২০০ টাকা দিলে রুম পাওয়া যাবে। রুমে ঢুকে হাত-মুখ ধুয়ে বিছানায় শুতে না শুতেই বিদ্যুত্ চলে গেলো। সন্ধ্যা ৬টায় চলে যাওয়া বিদ্যুত্ এলো ৩ ঘণ্টা পরে অর্থাত্ রাত ৯টায়। ঐ রাতে বেশ ক’বার বিদ্যুত্ গেলো আবার এলো— যে জন্য অত্যধিক গরমে যেন দগ্ধই হতে হলো। বার বার যেন অস্থির হয়ে পড়লাম। ভাবলাম, ফিরে যাই ঢাকায়। কিন্তু প্রিয় শহর সিলেটের জন্য তা সম্ভব হলো না— পরদিন দু’নয়ন ভরে দেখে নিলাম সিলেট! চা-বাগানের রূপে বার বার মুগ্ধই হতে হয়। শাহী ঈদগাহ আরো চমক সৃষ্টি করলো। বার বার হূদয়ে জেগে উঠলো হযরত শাহজালাল (র)-এর নামটি। পরদিন ২৯ মে ছিল হরতাল। বাস চলছে না। বাইরে দূরে জৈন্তাপুর হয়ে জাফলংয়ে যাওয়া আর হলো না।
ঢাকা থেকে সিলেট যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগা, সময়মতো ট্রেন না ছাড়া, বিলম্বে ট্রেন পৌঁছা, শহর ঘুরে দেখার জন্য রিকশা না পাওয়া, বিদ্যুত্ এই থাকা এই চলে যাওয়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদ্যুত্ না থাকা— এমন যদি অবস্থা হয় তাহলে পর্যটকরা সিলেট ভ্রমণে গিয়ে কষ্টই পাবেন— এটাই স্বাভাবিক। তবুও যে দর্শনীয় স্থান সিলেটে যেতে মন চায়। সেইসঙ্গে অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট স্ব স্ব বিভাগ তত্পর হবে বলে আশা রাখি।
ঢাকা
