দেশের দরিদ্র ও আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত জলে ভাসমান ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল ‘জীবনতরী’। হাসপাতালটি জলে ভেসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রোগীদের প্রায় বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি অপারেশন করে থাকে। এছাড়া এখানে ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ে মহিলাদের প্রশিক্ষণ, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজসেবক, এনজিওকর্মী প্রভৃতি সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
হাসপাতালটি বর্তমানে গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নোঙ্গর করে প্রায় পাঁচ মাস যাবত্ উক্ত এলাকার রোগীদের চিকিত্সাসেবা ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা গেছে, ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থের তিনতলাবিশিষ্ট ভাসমান হাসপাতাল জীবনতরী একটি আধুনিক চিকিত্সা সরঞ্জাম সজ্জিত ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল। এটি ইমপ্যাক্ট জীবনতরী ভাসমান হাসপাতাল নামে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে। ব্রিটিশ নাগরিক স্যার উইলসন প্রতিষ্ঠিত ইউ. কে ইমপ্যাক্টের অর্থায়নে এটি পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে চক্ষু প্রতিবন্ধী মনসুর আহমদ চৌধুরী ও ডা. রেজাউল হক হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন।
জীবনতরীর অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজিবুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিত্সক, দুইজন মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট, পাঁচজন নার্সসহ ৩৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। রয়েছে ১১টি বেড, নিজস্ব অপারেশন থিয়েটার, রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাবরেটরি সেবা, সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ ব্যবস্থা, রোগীদের জন্য লিফ্ট প্রভৃতি। রয়েছে নিজস্ব পানি শোধনাগার, যা দিয়ে নদীর পানি পরিশোধন করে সবার জন্য ব্যবহার করা হয়। এতে আরো আছে একটি এ্যাম্বুলেন্স, দুইটি স্পিডবোট, যা রোগী ও চিকিত্সক আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়।
নামমাত্র মূল্যে হাসপাতালটিতে চক্ষু, নাক-কান-গলা, জন্মগত বাঁকা পা, ঠোঁটকাটা প্রভৃতি রোগের চিকিত্সা করা হয়। ২০ টাকার বিনিময়ে আউটডোরে রোগী দেখে চিকিত্সাপত্র দেয়া হয়। জটিল রোগীদের অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়। পরে দেশের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ছাড়াও বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, সিংগাপুর থেকে চিকিত্সক এনে রোগীদের অপারেশন করা হয়। অপারেশনের জন্য বাছাইকৃত রোগীদের সকল পরীক্ষা হাসপাতালের নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে করা হয়। অপারেশন চলাকালীন রোগীর ওষুধ, থাকা-খাওয়া বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। গাজীপুরের কালীগঞ্জ জীবনতরীর ৪৬তম ভ্রাম্যমাণ প্রকল্প। স্থানীয় প্রশাসন, চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও সাধারণ মানুষ সকলেই জীবনতরীর সেবার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
