রাজশাহী সিটি নির্বাচন

টাকার প্রবেশ ঠেকাতে বস্তির গেটে পাহারা

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২২:৫৬
প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপে কেমন যেন বিস্ফোরণমুখর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল রাজশাহীতে। জ্যৈষ্ঠের শেষ দিনে শুক্রবার দুপুরের এক পশলা বৃষ্টি উত্তপ্ত রাজশাহীকে যেন শীতল করে দিল। কিন্তু এই বৃষ্টি নির্বাচনী উত্তাপকে কি শীতল করতে পেরেছে? বোধহয় পারেনি। প্রার্থী-সমর্থকদের তত্পরতা দেখে তা অন্তত মনে হচ্ছে না। শেষ মুহূর্তে বস্তির ভোট টানতে নানামুখী তত্পরতা চালাচ্ছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপি সমর্থিত মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে সবচেয়ে বড় চেষ্টা তারা যেটি করছেন তা হলো কেউ যেন টাকা দিয়ে ওই বস্তির ভোট কিনতে না পারে তা নিশ্চিত করা। এজন্য দুই প্রার্থীর পক্ষে বস্তিগুলোতে বসানো হয়েছে পাহারা। পালাক্রমে সমর্থকরা বস্তি ঘিরে পাহারা দিচ্ছেন। রাইসুল ইসলাম নামে বুলবুলের এক সমর্থক গতকাল বিকেলে এ প্রতিবেদককে জানান, বিকেল ৩টা থেকে তিনি শিরোইলের বস্তিতে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। ভোর পর্যন্ত চলবে তার পাহারা। আরিফুল ইসলাম নামে লিটনের এক সমর্থক বললেন, বুলবুলের লোকজন টাকা দিয়ে বস্তির ভোট কেনার চেষ্টা করছে। তাই তারা বস্তি পাহারা দিচ্ছেন। কেউ যেন টাকা নিয়ে বস্তিতে ঢুকতে না পারে, সেটাই নিশ্চিত করতে চান তারা। ভোটের আগের দিন গতকাল সারাদিনই দুই প্রার্থী অনেকটা নীরবে সময় পার করেছেন। তবে চারদিকে তাদের ছিল তীক্ষ নজর। খুব বড় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি দুই প্রার্থীর কাছ থেকে। লিটন বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের অপতত্পরতা বন্ধ করতে পারলে জয় তার অনিবার্য। আর বুলবুল বলেছেন, ভোট কারচুপি না করলে তিনিই হবেন রাজশাহীর পরবর্তী মেয়র। শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়া নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মনির-উজ-জামান ইত্তেফাককে বলেন, বৃস্পতিবার রাতভর গোটা নগরীতে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিভিন্ন জায়গায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর রাজপাড়া এলাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের পক্ষে টাকা দেয়ার সময় ১১ জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল সকালে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় বহিরাগত ১২ জনকে আটক করে। তারা রাজশাহী মহানগরীতে প্রবেশের যৌক্তিক কোন কারণ বলতে না পারায় ওই ১২ জনের প্রত্যেককে ৩ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছে। পুলিশ কমিশনার বলেন, শুক্রবার রাতেও ৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে। যেখানেই কোন আইন ভঙ্গের খবর পাওয়া যাবে সেখানেই ছুটে যাবে আদালত। এছাড়া পুলিশ গতকাল সকাল থেকেই রাজশাহী মহানগরীর চারদিকে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাসী করেছে। বহিরাগত কাউকে রাজশাহীতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। অবৈধ মটরসাইলে ও প্রাইভেট যানবাহনের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে। নির্বাচন সামগ্রী বিতরণ গতকাল সকাল থেকেই নগরীর ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র ব্যালেট বাক্সসহ আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে সব প্রিজাইডিং অফিসার এগুলো বুঝে নেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে ২২ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করবে। আর ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আরো দুইজন করে ২৪ সদস্য কাজ করবেন। এছাড়া কেন্দ্রের বাইরে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি কাজ করবে। এসএমএসে ভোট প্রার্থনা আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে এবং বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর ভোটারদের মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। এসএমএসে রাজশাহীবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চাওয়া হয়েছে। ভোটার সংখ্যা ও কেন্দ্র আজ সকাল ৮টা থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯১৭ জন ভোটারের অর্ধেকের বেশি নারী। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৫ জন। আর নারী ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২২ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ১০৪টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলছে নির্বাচন কমিশন।