ভারতীয় বংশগতি বয়ে চলেছেন প্রিন্স উইলিয়াম!

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২২:৫৮
ব্রিটেনের সিংহাসনের উত্তরসূরিদের তালিকায় দ্বিতীয় প্রিন্স উইলিয়াম রাজা হলে তিনিই হবেন প্রথম ব্রিটিশ শাসক যার রক্তে ভারতীয় পূর্ব পুরুষের ধারা বিদ্যমান। ডিউক অব ক্যামব্রিজ উইলিয়ামের আত্মীয়দের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ৩০ বছর বয়সী প্রিন্সের ডিএনএতে এক ভারতীয় গৃহপরিচারিকার ডিএনএর বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই পরিচারিকা প্রিন্সের মা ডায়নার বংশের। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, উইলিয়ামের গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট গ্র্যান্ডমাদার (প্রমাতামহ) ছিলেন ভারতীয়। উইলিয়ামের প্রপিতামহ থিওডর ফোর্বসের (১৭৮৮-১৮২০) বাড়িতে কাজ করতেন এলিজা কেওয়ার্ক। ফোর্বস ছিলেন একজন স্কট ব্যবসায়ী। তিনি গুজরাটের সুরাটে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে কাজ করতেন। এলিজার মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ (এমটিডিএনএ) তার মেয়েদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রিন্সেস ডায়ানা পর্যন্ত এসেছে। এরপর তা উইলিয়াম ও হ্যারির শরীরে স্থান করে নিয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, সম্ভবত এলিজার বাবার বংশের কেউ ছিলেন আর্মেনীয় এবং এ কারণে তাদের পরিবারে আর্মেনীয় সংস্কৃতির ছিল। উইলিয়ামের বংশগতি প্রসঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষাগার ব্রিটেনস ডিএনএ জানায়, তাদের সংগৃহীত সব তথ্যপ্রমাণ থেকে দেখা যাচ্ছে, তার মায়ের বংশের মানুষেরা ভারতীয়। প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারি এলিজা কেওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য বহন করলেও তার সন্তানদের মধ্যে তা বাহিত হবে না। কারণ এমটিডিএনএ কেবল মা থেকে সন্তানদের মধ্যে প্রবাহিত হয়। ফোবর্স একসময় এলিজাকে পরিত্যাগ করেন তার ঔরসে এলিজার গর্ভে জন্ম নেয়া মেয়ে ক্যাথরিনকে ছয় বছর বয়সে ভারত থেকে ব্রিটেনে পাঠিয়ে দেন বলে গবেষকেরা তথ্য উদঘাটন করেছেন। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বংশগতি বিশেষজ্ঞ জিম উইলসন ও ডিএনএ পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটেনস ডিএনএ বলছে, এলিজার সন্তান ও তাদের সন্তানেরা এক বিরল প্রজাতির এমটিডিএনএ বহন করছে। এটি কেবল মা থেকে মেয়েদের মধ্যে বাহিত হয়। ব্রিটেনে এখন পর্যন্ত যাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ১৪ জনের ডিএনএতে এমটিডিএনএ’র অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তাদের ১৩ জন ভারতীয় এবং একজন নেপালি।