ধনবৈষম্য হ্রাসে দরিদ্রদের ডাটাবেজ তৈরি জরুরি

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৩, ২১:২০
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, কৃষকরা যদি ফসলের ন্যায্য দাম না পেত তবে দেশে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যেত। চাল, ডাল ও তরি-তরকারি পাওয়া যেত না। লাভ হয় বলে মানুষ লোহার বোঝাও বইতে চায়। শনিবার কেন্দ্রীয় কচি কাঁচার মেলার মিলনায়তনে বজলুর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাজেট বিষয়ক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। অন্যদিকে আলোচনা সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, ধনবৈষম্য হ্রাসে দরিদ্রদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের নিরাপত্তা জাল কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও প্রাইস কমিশন না করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, চাহিদা ও সরবরাহের উপর ভিত্তি করে বেশিরভাগ পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। তাছাড়া আমাদের দেশে কমান্ড ইকোনমি-র ক’ও নেই। তাই এ ধরনের কমিশন করা সহজ কাজ নয়। ভর্তুকি প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রকৃত অর্থে কৃষি খাতে ভর্তুকি কমেনি। বকেয়া ভর্তুকি পরিশোধ করায় মনে হচ্ছে ভর্তুকি কমে গেছে। বীজ এবং নন ইউরিয়া সারে ভর্তুকি অব্যাহত রয়েছে। তাই এ নিয়ে আশাহত হওয়ার কিছু নেই। কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমদ, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত, ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ড. আর এম দেবনাথ এবং দৈনিক সংবাদ-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুনসহ আরও অনেকে। ড. ফরাসউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, সাময়িকভাবে বিদ্যুতের সঙ্কট কাটাতে কুইক রেন্টাল সঠিক হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা অব্যাহত রাখা ঠিক হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন অর্থনীতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বিদ্যুত্ খাত ছেড়ে দেয়া সরকারের জন্য কতটা নিরাপদ তাও বিবেচনার দাবি রাখে। তবে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও বিদ্যুত্ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য কয়লা উত্তোলনে অবশ্যই সমঝোতায় আসা প্রয়োজন। ড. তৌফিক আহমেদ বলেন, সরকার এ পর্যন্ত যে কাজগুলো করতে পারেনি এবারের বাজেটে তার একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। এটা ইতিবাচক। এতে বাজেটের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। বাজেটের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের চাপ কমাতে শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেট থেকে টাকা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ড. আর এম দেবনাথ বলেন, দেশের জনগণের তুলনায় বাজেটের আকার ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য কোনোভাবেই বিশাল নয়। আমাদের এডিপির বড় অংশই ঋণ নির্ভর। রাজস্ব আদায় বাড়াতে পারলে এ প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, দেশে বছর বছর প্রবৃদ্ধি বাড়লেও তার বণ্টন সঠিকভাবে হচ্ছে না। ফলে বৈষম্য বাড়ছে। বণ্টনকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে শেয়ারবাজার থেকে টাকা তোলার পরামর্শ দেন তিনি। প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে সরকারকে জামায়াত-হেফাজতের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোরতা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দেশের বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি গতিপ্রাপ্ত হবে। তিনি আরও বলেন, চরম দারিদ্র্য হ্রাস পেলেও আয় বৈষম্য বেড়ে যাচ্ছে। তাই দরিদ্র ৫ কোটি লোকের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে তাদের নিরাপত্তা জাল কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি তাদের কাজের সুযোগ করে দেয়ার জন্য পদ্ধতি বের করতে হবে।