টাইফয়েড জ্বর অনেক সময় মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সালমোনেলা টাইফি নামক এক ধরনের জীবাণু দিয়ে টাইফয়েড জ্বর হয়। সাধারণত অন্যান্য জ্বরের মতোই টাইফয়েড জ্বর দেখা দেয়। জ্বরের সঙ্গে শরীর ব্যথা, হালকা কাশিসহ অন্যান্য উপসর্গ থাকতে পারে। সাধারণত ভাইরাস জ্বর বা ফ্লু এমনিতেই কোন প্রকার চিকিত্সা ছাড়া ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। তবে জ্বর যদি ৭ দিনের মধ্যে ভালো না হয় তবে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে রক্তের রুটিন পরীক্ষার পাশাপাশি বিডাল টেস্ট ও রক্তের কালচার টেস্ট করার প্রয়োজন হয়। রক্ত পরীক্ষার পর যথাযথ এন্টিবায়োটিক দেয়া হলে টাইফয়েড জ্বর ভালো হয়। তবে টাইফয়েড জ্বর সঠিক সময় ডায়াগনোসিস না হলে এবং যথাযথ চিকিত্সা না হলে পাকস্থলীর আলসারসহ পারফরেশন বা অন্ত্রনালী ফুটা হয়ে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তখন সার্জারি ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। তবে আজকাল টাইফয়েড জ্বরের প্রতিরোধে কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। প্রতি ৩ বছর পরপর একটা টাইফয়েডের ভ্যাকসিন দিয়ে টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধ করা যায়। পূর্বে উচ্চমূল্যে বিদেশি ভ্যাকসিন দিতে হতো। আশার কথা দেশেই এখন উন্নতমানের টাইফয়েড ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। তবে টাইফয়েডের ভ্যাকসিন দেয়ার আগে একটি ভালো ভ্যাকসিন সেন্টারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন নেয়া ভালো। আর একটি কথা মনে রাখতে হবে, স্কুলগামী শিশুদের টাইফয়েড বেশি হয়। পানি ও খাদ্যবাহিত এ রোগটি প্রতিরোধে স্কুলে শিশুরা যাতে বাইরের খোলা খাবার না খায় তা অবশ্যই দেখতে হবে। এছাড়া জ্বর যদি ৫/৭ দিনের মধ্যে নিরাময় না ঘটে তবে অবশ্যই কোন চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে পারেন। সাধারণত জ্বর ১০১ ডিগ্রির বেশি হলে প্যারাসিটামল এবং কাশির জন্য এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়।
