বাংলাদেশে বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতরা গার্মেন্টস সেক্টরে নারী শ্রমিকদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কমিয়ে চার মাস করার কথা বলেছেন। একই সাথে তারা বলেছেন, মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী আইনের দেওয়ালটি অপসারণ করতে হবে। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত গণশুনানিতে তারা এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবে তিনদিনব্যাপী গণশুনানির দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল। আজ রবিবার এ শুনানি শেষ হচ্ছে। বর্তমানে চালু মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের ছুটি কি কারণে চার মাস করা প্রয়োজন—এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা। তারা বলেছেন, যদি ছয় মাস ছুটি বহাল রাখা হয় তাহলে মালিকরা নারী শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরুত্সাহিত হবে। আর তা যদি হয় সেটি হবে নারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে একটি নেতিবাচক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ছাড়া ইউরোপসহ অপরাপর দেশে নারী কর্মজীবী ও শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি চার মাস।
গণশুনানিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গার্মেন্টস মালিক সংগঠন, ক্রেতা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর ও হেড অব ডেলিগেশন উইলিয়াম হান্না, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত গার্বেন ডি জং, ফ্রান্সের ইকোনমিক কাউন্সিলর এরিক ব্লাংক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্যা এফেয়ার্স জন ড্যানিলোভিচ শ্রম আইনের সংশোধনী বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
গণশুনানি বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের সংবিধান ও আইএলও কনভেনশনের আলোকে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আইনের ধারা অবলুপ্তির দাবি জানান। বৈঠকে মালিকদের ঢালাওভাবে শাস্তির বিধান না রাখার এবং ট্রেড ইউনিয়নসহ অন্যান্য বিষয় একসঙ্গে চালু না করে সহনীয়ভাবে পর্যায়ক্রমে চালু করার সুপারিশ করা হয়।
এদিকে কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে সমপ্রতি সাভারে রানা প্লাজায় সংঘটিত ট্রাজেডিতে বহু গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা সকল কারখানায় যাতায়াতসহ উত্তম কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বেকার সমস্যা সমাধান, মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে গার্মেন্টস শিল্পের অবদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ব্যাখ্যা করে কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এ শিল্পের মানোন্নয়নে আইএলও কনভেনশনের প্রতি লক্ষ্য রেখে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান। গণশুানানিতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. ইসরাফিল আলম। কমিটির সদস্য বেগম রওশন জাহান সাথী বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
