না’গঞ্জে দুই পৌর মেয়র নির্বাচনে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে বিএনপি

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৩, ২১:৫০
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার সদর ও গোপালদী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে উপজেলা বিএনপি। সদরে পারভীন আক্তার ও গোপালদীতে আবুল বাশার কাসুকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। শনিবার দুপুরে আড়াইহাজারের ইলুমদী এলাকায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান খসরু। এসময় উপস্থিত ছিলেন আড়াইহাজার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবু, যুগ্ম সম্পাদক ফকির আবুল কাশেম, বিএনপি নেতা ও আড়াইহাজার বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন অনু, সদর পৌর বিএনপির সভাপতি জাহিদ হাসান, গোপালদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরুন্নাহার, নগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক দিলারা মাসুদ ময়না, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদা খাতুন মিতা, ডলি আহম্মেদ প্রমুখ। বদরুজ্জামান খসরু বলেন, সদরে পারভীন ও গোপালদীতে কাসু ব্যতীত বিএনপি সমর্থিত অন্য কোন প্রার্থী নেই। যারা দলের নির্দেশ অমান্য করে প্রার্থিতা বহাল রাখবেন। তাদের সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক থাকবে না। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসনে রদবদল করার জন্য রিটার্নিং অফিসারের প্রতি আহবান জানান। জিততে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে বিএনপি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দুটি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী করে আনতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতারা বলেছে, নির্বাচনটি তাদের জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন। এ কারণেই জেলা বিএনপির পাশাপাশি সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও দলের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করবে এবং প্রতিদিন প্রচারণায় অংশ নিবে। কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতাও প্রচারণায় আসতে পারে। সেজন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে লবিং শুরু হয়েছে। সূত্রমতে, ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ-২ আসন) থেকে জয়ী হন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু। ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হন আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজালাল। ২০১১ সালে আড়াইহাজারের ১০ টি ইউনিয়ন পরিষদে সবগুলো চেয়ারম্যান পদেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এদিক থেকে আড়াইহাজারে জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকারে বিএনপির কোন জনপ্রতিনিধি নেই বললেই চলে। আগামী ৬ জুলাই হতে যাওয়া নির্বাচনে দুটোতেই জয় পেতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। নতুন গঠিত দুটো পৌরসভায় জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের সেই দুর্গ ভাঙতে চায় বিএনপি এমনি স্পৃহা দলটির নেতা-কর্মীদের। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার জানান, আমাদের প্রত্যাশা সমর্থিত প্রার্থীরাই জয়ী হবে। এজন্য আমিসহ অন্য সকলেই আড়াইহাজারে গিয়ে প্রচারণা চালাবো। মানুষ এখন সরকারের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সুতরাং আমরা আশা করি, বিএনপির প্রার্থীর পক্ষেই ব্যালট বিপ্লব ঘটবে। আড়াইহাজার থানা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বদরুজ্জামান খান খসরু জানান, আড়াইহাজার সদরে পারভীন আক্তার ও গোপালদীতে আবুল বাশার কাসুকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। আশা করি, আড়াইহাজারের জনগণ এখন যেমন অত্যাচার আর নির্যাতন সহ্য করে আসছে তারা ৬ জুলাই এর সমুচিত জবাব দেবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান, আড়াইহাজারে ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এবার যুবদল সে ধরনের কারচুপি করার সুযোগ দিবে না। যুবদল অচিরেই আড়াইহাজারে দলের সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ শুরু করবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরুন্নাহার জানান, আমরা ইতোমধ্যে মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা আড়াইহাজারে গিয়ে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছি। ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহেদ আহম্মেদ জানান, মহানগর ছাত্রদল অচিরেই আড়াইহাজার থানা ছাত্রদলকে সঙ্গে নিয়ে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামবে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু জানান, এই সরকারের আমলে আড়াইহাজারে যে বিপুল উন্নয়ন হয়েছে তাতে জনগণ দুটো পৌরসভাতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে মেয়র হিসেবে বিজয়ী করবে। তিনি বলেন, গোপালদীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। অপরদিকে আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগের ৬ জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ কাকে সমর্থন দিবে তা নির্ধারণ করবে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ। ১৭ তারিখ প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবে একক প্রার্থী দিতে। যদি তাতেও সফল না হয় তাহলে ৬ জনকেই ওপেন করে দেয়া হবে। যে জিতে আসতে পারে তাকেই স্বাগত জানানো হবে। তবে তিনি এও জানান, আড়াইহাজারের জনগণ আওয়ামী লীগের ঐ ৬ জনের কোন একজনকে বেছে নেবে অন্য কাউকে নয়। প্রসঙ্গত, নির্বাচন নিয়ে অস্তিত্বের অগ্নিপরীক্ষায় রয়েছে জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচন, ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও ২০১১ সালে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সবগুলো পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়। পরপর সবগুলো নির্বাচনে হারার পর আসন্ন দুটি পৌরসভা নির্বাচন বিএনপির জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৭ জুন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১৮ জুন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৬ জুলাই।