ছয় জলদস্যু নিহত :নোয়াখালীতে ৩ হাজার গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৩, ২২:৩৬
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্কের দুর্গম চর সেলিম বাজার এলাকার নঙ্গলিয়া ও পূর্ব চরবাটায় শুক্রবার গণপিটুনিতে ৬ বন ও জলদস্যু নিহতের ঘটনায় ঐ এলাকার অজ্ঞাতনামা ৩ হাজার গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ২১ দস্যুর নাম উল্লেখ করে অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে চরজব্বার থানা পুলিশ। ঘটনার রাতে এসআই আবদুল বাতেন বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান পিপিএম। ওসি মোশারফ হোসেন তরফদার জানান, নিহত ৬ দস্যুর মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। নিহত দস্যু সর্দার বাটা সেলিম (৩৫) চরবাটার, মাকসুদ (২৬) চরআলাউদ্দিন, নুরুল আলম (২৮) দক্ষিণ চরবাগ্গা, কালা শংকর (৩০) ও দেলোয়ার হোসেন কুইকা (৩২) চট্টগ্রাম জেলার মহেশখালীর অধিবাসী। আটককৃত দস্যু হান্নান ও রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ দস্যুদের কাছ থেকে দুটি বন্দুক, একটি এলজি, চাইনিজ রাইফেলের ১২ রাউন্ড, থ্রিনটথ্রি’র ৫ রাউন্ড ও শটগানের ৫ রাউন্ড গুলি, ছয়টি রামদা ও জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের তিনশ’ টোকেন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনা সম্পর্কে চরক্লার্ক ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন জানান, গত ২০ ডিসেম্বর র্যাবের ক্রসফায়ারে দস্যু সর্দার নিজাম নিহত হবার পর তার সেকেন্ড ইন কমান্ড বাটা সেলিম দস্যু সর্দার হিসাবে আবির্ভূত হয়। দীর্ঘদিন ধরে তার দস্যু বাহিনী নদী পথে, দুর্গম চর ও লোকালয়ে ডাকাতি, ভূমিহীন ও জেলেদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে। এতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে এ দস্যু বাহিনী সেলিম বাজার এলাকার নঙ্গলীয়ার চরে অবস্থান করে। পরদিন শুক্রবার সকালে তারা এলাকা ছেড়ে যাবার কালে এলাকাবাসী টের পেয়ে তাদেরকে ঘেরাও করে। এলাকার কয়েকশ’ বিক্ষুব্ধ জনতা তাদেরকে ধাওয়া করে বিভিন্ন চর এলাকায় গণপিটুনি দেয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনা চলে। এসময় ঘটনাস্থলে ৩ দস্যু নিহত হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর বিকালে আরো ৩ জন মারা যায়। আগ্নেয়াস্ত্রসহ আহত দুই দস্যুকে জনতা পুলিশে সোপর্দ করে। এদিকে গতকাল শনিবার নিহতদের লাশ ময়না তদন্ত শেষে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিকালে নিহতদের পরিবারের কাছে স্থানীয় তিনজনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।