চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের লোকজন প্রশাসনের সহায়তায় বিরোধী জোট সমর্থক ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে, অনেক স্থানে ১৮ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিরোধী দলের সাবেক-বর্তমান এমপিদের বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল ভোট গ্রহণ চলাকালে দুপুর ১২টায় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেটের নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ করে বিএনপির সংসদ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল।
বিএনপির প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য, বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন সারাদিন নির্বাচন মনিটরিং করার কথা। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারও এখন অফিসে নেই, মাত্র একজন কমিশনার (আব্দুল মোবারক) সচিবালয়ে রয়েছেন। ইসির কার্যক্রমে আমরা সন্তুষ্ট নই। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে বলে ইসির দাবির প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি না। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ১৮ দলের সমর্থকদের নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসন, থানাও নানা অনিয়ম করছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসি আব্দুল মোবারক সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।
বিএনপি নেতা এ্যানী অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিএনপির এমপি বরকত উল্লাহ বুলু এ সময় কমিশনার আব্দুল মোবারকের কাছে অভিযোগ করেন, খুলনার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএনপির সমর্থকদের মারধর করছেন এবং পুলিশের একজন সাবেক উপ-মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) স্ত্রী সেখানে প্রভাব খাটাচ্ছেন। বরিশালে ১৮টি কেন্দ্রে ১৮ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। সিলেটের সদর উপজেলার চেয়ারম্যান দাঁড়িয়ে থেকে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছেন এবং রাজশাহীতেও সরকার সমর্থকরা বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ ছিল- বরিশালের ১৩ ওয়ার্ডের ৪৫ ও ৯৩ নম্বর কেন্দ্র থেকে আহসান হাবিবের চারজন এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে দেখা গেছে, চারজন এজেন্টের তিনজন উপস্থিত আছেন। আরেকজন সকাল থেকে অনুপস্থিত। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্র সমূহে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এজেন্টদের পাঁচজনই উপস্থিত রয়েছেন।
অভিযোগ জানাতে যাওয়া বিএনপির প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াসহ কয়েকজন এমপি। দুপুর ২টায় তারা নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিনিধি দলটি যখন ইসি সচিবালয়ে যায়, তখন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ছিলেন না। তখন তারা নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারকের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তারা সিইসির সঙ্গে দেখা করেন।
