উত্সাহ-উদ্দীপনার চার সিটি নির্বাচন

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৩, ২৩:২১
বিপুল উত্সাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এর মধ্যেই ছিল উত্তাপ-উত্তেজনা। কয়েকটি স্থানে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার ও এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। খুলনায় র্যাবের লাঠিপেটায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে র্যাব দাবি করেছে, হূদরোগজনিত কারণে আলম সরদার মারা যান। রাজশাহীতে ভোটগ্রহণ নিয়ে সরকারি এবং বিরোধীদল সমর্থিত প্রার্থীদের কারোরই তেমন কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সিলেটেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বরিশালে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও ভোটগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ। কয়েকটি ঘটনায় তিনটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। দৃশ্যত চার সিটিতেই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চার সিটিতেই তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের অসংখ্য কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ব্যাপক জালভোট দেয়া হয়েছে। তবে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ বলেছে, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য এসব ভুয়া অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তাপ-উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত চার সিটিতে একযোগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চার সিটিতেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। চার সিটিতে র্যাবের ৬০টি দল ( প্রতি দলে ৮ থেকে ১০ জন), ২১ প্লাটুন বিজিবি এবং খুলনা ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ৫ প্লাটুন কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া ১১৮টি মোবাইল এবং ৪০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত ছিল। প্রতি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ২২ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৪ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী মোতায়েন করা হয়। আজ রবিবার এবং আগামীকাল সোমবারও সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। চার সিটিতেই মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে মোট ৯১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি সিটিতে ৫ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট তাদের সাথে ছিলেন। এতকিছুর পরও কোথাও কোথাও গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি গোলযোগ হয় বরিশালে। এখানে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দিয়াপাড়া ভোটকেন্দ্র, পূর্ব রূপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এ করিম আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রায় এক ঘন্টা বন্ধ ছিল। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও এ কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কমে যায়। এছাড়া আওয়ামী লীগের কর্মীদের হাতে মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল লাঞ্ছিত হন। কামাল দাবি করেছেন, তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। ঐ স্থানে বাকেরগঞ্জের সাবেক এমপি আবুল হোসেনও আহত হন। আঘাতে তার গালের কিছু অংশ কেটে যায়। খুলনায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও ক্রিসেন্ট জুটমিল গেটের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী আলম সরদার (৪৫) মারা যান। তিনি ঐ মিলের একজন শ্রমিক। ইসলামী আন্দোলনের সমর্থিত কাউন্সিলর শামসুল আলমের সমর্থনে জনাবিশেক ইসলামী শাসনতন্ত্র কর্মী জিকির করতে করতে কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। এ সময় র্যাবের একটি টিমের লাঠিচার্জে আলম সরদার রেললাইনের উপর ছিটকে পড়ে বুকে আঘাত পান। নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ঐ কেন্দ্রে কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। ঐ কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটার উপস্থিতি কমে যায়। ঐ কেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। তবে রাজশাহী এবং সিলেটে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। সিলেটে এবং রাজশাহীতে প্রধান দুই প্রার্থী কারোরই তেমন কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। রাজশাহীতে লিটন এবং বুলবুলের মধ্যে কোলাকুলির ঘটনাও ঘটেছে। তবে সেখানে তিনটি কেন্দ্রে পুলিশ ‘মৃদু লাঠিচার্জ’ করেছে। সিলেটেও উত্সবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নগরীর খাস দবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক মহিলা পোলিং অফিসারকে জাল ভোটে সহায়তার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়।