সিলেটে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৩, ২৩:২৩
দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া গতকাল শান্তিপূর্ণভাবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নির্বাচন নিয়ে আগেই কারচুপির আশংকা করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ভোট সুষ্ঠুভাবে গ্রহণ করা হলে আমি অবশ্যই মেনে নেব। অপরদিকে ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। ফলাফল যা হয় তা অবশ্যই মেনে নেব। গতকাল বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, মহিলা ভোটারদের বিপুলসংখ্যক উপস্থিতি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই মেয়র ও কাউন্সিল প্রার্থীরা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। কামরান ভোট দেন সকাল ৯ টায়: সকাল ৯টায় সিলেটের কালীঘাট এলাকার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। ভোট দেয়ার পর কামরান সাংবাদিকদের বলেন, সিলেটে¬¬র মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থেকেছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। সেই সুবাদে আমি আমার বিজয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, আমি মাথা পেতে নেব। তিনি সারদা হল, জামেয়া মাদানিয়া, কাজীবাজার মাদ্রাসা, মঈন-উন-নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেখঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধু শহীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ে যান। এ সময় তিনি ভোটারদের সাথে সালাম বিনিময় করেন। দুপুরে চৌকি দেখি এলাকার শাহ পরান প্রি-ক্যাডেট একাডেমি সেন্টারে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা টেলিভিশন টেলিভিশন করে শ্লোগান দিলে সেখানে মৃদু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি তাত্ক্ষণিক মীমাংসা করেন। বিকালে তিনি দক্ষিণ সুরমার কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এর আগে সকালে তিনি হযরত মানিক পীর (র:)-এর মাজার সংলগ্ন পিতা-মাতার কবরস্থান জিয়ারত করেন। আরিফুল হক ভোট দেন সকাল সাড়ে ৮ টায় : গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হলে আমি নিশ্চিত জয়ী হবো। তিনি বলেন, আমার বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। ভোট দেয়ার পর নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন তিনি। তিনি সকালে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সারদাহল, জামিয়া মাদানিয়া কাজীবাজার মাদ্রাসা, কাজী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, দারুস সালাম মাদ্রাসা, খাসদবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় উত্সাহী ভোটারা তাকে ঘিরে ধরে আনন্দ-উল্লাস করে। আরিফুল হক তাদের কাছে দোয়া চান। তার কাছে অনেক ভোটার অভিযোগ করেন, অনেক স্থানে জাল ভোট দেয়া হচ্ছে। পোলিং অফিসার প্রত্যাহার: নগরীর খাসদবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক মহিলা পোলিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়। একজন ভোটারকে দুইটি ব্যালট পেপার দেয়ার কারণে মহিলা পোলিং অফিসার লুত্ফুন নেসাকে প্রত্যাহার করা হয়। অন্যদিকে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানের প্রভাব বিস্তার নিয়ে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুর ২টার দিকে বিএনপির নেত্রী হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ অভিযোগ দাখিল করতে গেলে তিনি যুবলীগ নেতা কামালের হাতে লাঞ্ছিত হন। পরে র্যাব এসে লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া নগরীর হাউজিং স্টেট কেন্দ্রে সরকারি দলের কর্মীরা প্রভাব বিস্তার করেছে বলে অভিযোগ করেছে ১৮ দলের সমর্থিত প্রার্থী।