হ লি উ ড তা র কা

মেরিল স্ট্রিপ

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২০:২৯
মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্র— সবখানেই সমান পারদর্শী ‘দ্যা আয়রন লেডি’ খ্যাত অস্কারজয়ী বিখ্যাত অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ। অভিনেত্রী ও গায়িকা হিসেবে তার পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। সাম্প্রতিককালে তাকে বিশ্বের সর্বত্র সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং সম্মানীয় অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ পর্যন্ত তিনবার অস্কার জয়ী ৬৪ বছর বয়সী বিখ্যাত এই মার্কিন অভিনেত্রীর জন্ম ১৯৪৯ সালের ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে। শৈশবে তিনি মেরি লুইস স্ট্রিপ নামে পরিচিত ছিলেন। তার বাবা হ্যারি উইলিয়াম স্ট্রিপ জুনিয়র ছিলেন একজন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক এবং মা মেরি উল্ফ ছিলেন একজন পেশাদার চিত্রকর ও চিত্র সম্পাদক। মঞ্চ অভিনেত্রী হিসেবে মেরিল স্ট্রিপের অভিষেক ঘটে ১৯৭১ সালে দ্য প্লেবয় অব সেভিলের মাধ্যমে। ১৯৭৭ সালে দ্য ডেডলিয়েস্ট সিজনে দিয়ে অভিষিক্ত হন টিভি পর্দায়। একই বছরে তিনি জুলিয়া ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিষেক ঘটান চলচ্চিত্রে। মেরিল স্ট্রিপ এ পর্যন্ত ১৭ বার অস্কার মনোনয়ন পেয়েছেন। অস্কার জিতেছেন তিনবার। ১৯৭৯ সালে ক্র্যামার ভার্সাস ক্র্যামার তাকে প্রথম অস্কার এনে দেয় সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসাবে। পরে ১৯৮২ সালে সোফি’স চয়েজ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১১ সালে বহুল আলোচিত ছবি ‘দ্যা আয়রন লেডি’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। ছবিটি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের জীবন কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এখন পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন মেরিল স্ট্রিপ। ১৯৮৩ সালে ‘সিল্কউড’, ১৯৮৫ সালে ‘আউট অফ আফ্রিকা’, ১৯৮৮ সালে ‘এ সিটি অব ডার্ক’, ১৯৯৮ সালে ‘দ্যা ব্রিজেস অব মেডিসন কাউন্টি’, ১৯৯৯ সালে ‘মিউজিক অব দ্যা হার্ট’, ২০০৩ সালে জুলিয়ান মুর এবং নিকোল কিডম্যানের সঙ্গে ‘দ্যা আওয়ার্স’, ২০০৪ সালের ‘দ্যা মানচুরিয়ান ক্যান্ডিডেট’ এবং ২০০৬ সালের ‘দ্যা ডেভিল ওয়্যার্স প্রাদা’ তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। ক্লিন্ট ইস্টউডের সঙ্গে করা ‘দ্যা ব্রিজেস অফ ম্যাডিসন কাউন্টি’ ছবিটি দেখে চোখের জল ধরে রাখায় কষ্টকর। ‘দ্যা আয়রন লেডি’-র আগে ২০০৯ সালে তিনি অভিনয় করেছিলেন সত্য কাহিনী অবলম্বনে তৈরি কমেডি ছবি ‘জুলি এ্যান্ড জুলিয়া’তে? চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সঙ্গীত জগতেও তার অবস্থান বেশ পাকাপোক্ত। ২০০৮ সালে স্ট্রিপ বাণিজ্যধর্মী চলচ্চিত্র হিসেবে ফাইলিডা লয়েডের পরিচালনায় মামা মিয়া ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি মামা মিয়া শিরোনামে একটি গানও গেয়েছেন। সুইডেনের অ্যাবা পপ দলের গানের উপর ভিত্তি করে রচিত ও স্ট্রীপের মাধ্যমে ধারণকৃত গানটি অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ৩৫তম পিপলস চয়েজ এ্যাওয়ার্ডের সাউন্ডট্র্যাক হতে জনপ্রিয় গান বিভাগে তার গাওয়া গানটি পুরস্কৃত হয়। এই গানের জন্যেই স্ট্রিপ ২০০৮ সালে ৫ম বারের মতো গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। মেরিল স্ট্রিপ প্রথমে অভিনেতা জন কেজেলের সাথে ১৯৭৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩ বছর সংসার করেন। পরে ১৯৭৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন ভাস্কর ডন গামারকে। গামারের সংসারে তার ৪ সন্তান— হেনরী হ্যাঙ্ক ওল্ফ গামার, মেরি উইলা মেমি গামার, গ্রেস জেন গামার এবং লুইসা জেকবসন গামার। তন্মধ্যে— মেরি উইলা মেমি গামার এবং গ্রেস জেন গামার অভিনেত্রী হিসেবে এবং হেনরী হ্যাঙ্ক ওল্ফ গামার কণ্ঠশিল্পী। মেরিল স্ট্রিপ এ পর্যন্ত ১৭ বার অস্কার বা একাডেমী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন; তন্মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন ৩ বার। গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে মনোনীত হযয়েছেন ২৬ বার; বিজয়ী হয়েছেন ৮ বার। এছাড়াও দুইবার এমি এ্যাওয়ার্ড, একবার কান চলচ্চিত্র উত্সব পুরস্কার, পাঁচবার নিউইয়র্ক ফিল্ম ক্রিটিক সার্কেল পুরস্কার, পাঁচবার গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়নসহ বহু পুরস্কারের জন্য মনোনীত বিজয়ী হয়েছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন। ২০০৪ সালে এএফআই আজীবন সম্মাননা পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।