গোলরক্ষকই যখন একমাত্র অতিরিক্ত খেলোয়াড়!

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২১:৩৮
ফুটবল খেলাটা যারা দেখেন বা একটু আধটু হলেও খোঁজখবর রাখেন তাদের প্রায় সবাই বোধকরি বদলি খেলোয়াড়ের ধারণাটির সাথে পরিচিত। খেলার মাঠে অপরিহার্য কোনো খেলোয়াড় আহত হলে বা দলের প্রয়োজনে কোনো একটি বিভাগে (রক্ষণ, মধ্যমাঠ বা আক্রমণ) বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হলে প্রায়ই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে কাউকে না কাউকে মাঠে নামতে দেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে নেহাত প্রয়োজন না হলে খেলার শুরু থেকে শেষ অবধি মোটামুটি আগাগোড়াই যিনি খেলেন তিনি হলেন দলের গোলরক্ষক। অথচ মজার বিষয় হলেও সত্যি যে, গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বের খেলায় গিনির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে শুধুমাত্র একজন গোলরক্ষক নিয়েই মাঠে নামতে হয় জিম্বাবুয়েকে। এমনকি এই প্রতিবেদন লেখা অবধি অনুষ্ঠিত না হওয়া এই খেলায় মধ্যমাঠ বা আক্রমণ বিভাগের কোনো খেলোয়াড়ের পরিবর্তে জিম্বাবুয়ে যদি অতিরিক্ত একজন গোলরক্ষককেও মাঠে নামিয়ে থাকে তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ অতিরিক্ত খেলোয়াড় দূরে থাক, গিনিতে যাওয়ার আগে খেলতে নামার জন্য অপরিহার্য ১১ জন খেলোয়াড় নিয়ে যেতেই যে হিমশিম খেতে হচ্ছিল জিম্বাবুয়েকে। ঘটনাটা এমন নয় যে হুট করেই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছেন বা বিদ্রোহ করে খেলা বাদ দিয়েছেন। বরং অর্থনৈতিকভাবে নাজুক অবস্থায় থাকা দেশটির ফুটবল ফেডারেশন গিনিতে যাওয়ার বিমান টিকেট বুকিং দিতে দেরি করার কারণেই শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৪টি টিকেট মেলে তাদের কপালে। তাই দলের কোচ আর ডাক্তার বাদে সেনেগালের রাজধানী ডাকার থেকে কানেক্টিং ফ্লাইটে মাত্র ১২ জন খেলোয়াড়েরই স্থান হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে একজন গোলরক্ষক বেশি প্রয়োজনীয় বলে মনে করার কারণেই দু’জন গোলরক্ষক ও নিয়মিত দশজন খেলোয়াড়কে গিনিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ে ফুটবলের কর্তাব্যক্তিরা। আর এ কারণেই গোলকিপার ছাড়া অন্য কেউ আহত হলে যেকোনো পজিশনেই দেখা যেতে পারে অতিরিক্ত গোলরক্ষককে। আর কোনো কারণে দু’জন খেলোয়াড় আহত হলে হয়তো লালকার্ড দেখা ছাড়াই দশজনের জিম্বাবুয়ে দলকে খেলতে হয়েছে(!) গিনির বিরুদ্ধে।