দেশে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সংখ্যা আট সহস্রাধিক। এর মধ্যে ৭০০ গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি কোন সমিতির সদস্য নয়। বর্তমানে ১৬টি গার্মেন্টস কারখানা ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিকে চলতি অর্থ বছরের গত এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি ও রফতানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য ঘাটতি হচ্ছে প্রায় পাঁচশ’ কোটি ডলার।
দু’দিন বিরতির পর গতকাল রবিবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের সংসদকে এ তথ্য জানান। সাধনা হালদারের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চলতি অর্থ বছরের গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমদানি ব্যয় হচ্ছে ২৬ হাজার ৭৩৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার। আর রফতানি আয় ২১ হাজার ৭৮৩ দশমিক নয় মিলিয়ন ডলার। একই সময় বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ হলো চার হাজার ৯৫৩ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থ বছরে পূর্বের তুলনায় আমদানি ও রফতানির মধ্যে পার্থক্য হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। রফতানি বৃদ্ধি করে এ পার্থক্য আরও হ্রাসের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।
একেএম মাইদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে আট হাজার ২২০টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। এরমধ্যে সাত হাজার ৫২০টি ফ্যাক্টরি বিজিএমই এবং বিকেএমই-এর সদস্যভুক্ত। অবশিষ্ট ৭০০টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি এ দু’টি সমিতির কোনটির সদস্যভুক্ত নয়। চলতি বছরের গত মার্চ পর্যন্ত হিসাবে ৪৭টি তফসিলী ব্যাংক গার্মেন্টসগুলোতে ৩৪ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এদিকে চালু রয়েছে ছয় হাজার ১৪৯টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি। বন্ধ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সংখ্যা দুই হাজার ৭১টি। সদস্য নয় যেসব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি তারা সাব-কণ্ট্রাকে কাজ করে। একই বিষয়ে মো. তাজুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে বর্তমান সময় পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ১৬টি গার্মেন্টস কারখানা ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি কম বা সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি কারখানা ইতিমধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া কম ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলো উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ভবন ব্যবহারের উপযোগী হিসাবে ছাড়পত্র গ্রহণ করায় পুনরায় চালু করা হয়েছে।
রমজানে টিসিবি
জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আসন্ন রমজান উপলক্ষে সকল শ্রেণির মানুষের জন্য টিসিবি’র পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সরবরাহ করা হবে। সারাদেশে দুই হাজার ৯৮৪ জন ডিলারের মাধ্যমে চিনি, মশুর ডাল, ছোলা, সয়াবিন তেল, পামঅয়েল ও খেজুর সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও রমজানে ঢাকায় ২৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরে পাঁচটি ও জেলা শহরে দু’টি করে ট্রাকসেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই বিষয়ে সুকুমার রঞ্জন ঘোষের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার ২০ দিন পূর্বে টিসিবি পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করবে।
কেমিক্যালমুক্ত ফল বিক্রি
বেগম রওশন জাহান সাথীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাজারে বিষাক্ত কেমিক্যালমুক্ত ফল বিক্রি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর দেশব্যাপী নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত রেখেছে। রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে আট থেকে নয়টি বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের জন্য আমেরিকা থেকে তিনটি ব্যয়বহুল ফরমালিন শনাক্তকরণ মিটার সংগ্রহ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের জন্য এই মিটার সংগ্রহ করা হবে। ইতিমধ্যে মিটারের মাধ্যমে আম, আপেল, কমলা, মাল্টা, লিচু, খেজুর, জাম্বুরা, কাঁচা মরিচ ও মাছে ফরমালিন শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযানে পাঁচ হাজার ৫৬০ কেজি ফল এবং ৬৩০ কেজি মাছ ধ্বংস করা হয়েছে। জরিমানা আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ফরমালিন মিশানো খাদ্য গ্রহণ দেহের মারাত্মক ক্ষতি হয় মর্মে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ব্যাপক প্রচারণা চালানোর ব্যবস্থা অচিরেই নেয়া হবে। তবে এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার লাগানোর মধ্যদিয়ে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এমএলএম ব্যবসা বন্ধে আইন
চেমন আরা বেগমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এমএলএম ব্যবসার নামে প্রতারণা বন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (নিয়ন্ত্রণ) আইন’২০১৩ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের পর আইনটি বর্তমান ভেটিং-এর জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে রেজিস্ট্রার, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরে নিবন্ধনকৃত এমএলএমধর্মী কোম্পানির সংখ্যা ১২৯টি। এরমধ্যে রেজিস্টার, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি কর্তৃক ৩৭টি কোম্পানির নাম নিবন্ধন বই থেকে কর্তন করা হয়েছে।
