মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের ১১ সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে আটটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ছয়টিতেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। দুটি সিটি কর্পোরেশনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। যদিও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেয়ে বিমুখ হন বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি। আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেয় শামীম ওসমানকে। দলের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন আইভী। নির্বাচনে শামীম ওসমান পরাজিত হলে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড আইভীকে কাছে টেনে নেন।
বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার দেড় বছরের মাথায় ২০১০ সালে জুনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়। এরপর ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ, ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা, ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর নবগঠিত রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়। আর গত ১৫ জুন শনিবার দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়। সর্বশেষ চার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। আর যে চারজন হেরেছেন তারা সকলেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবং সদ্য বিদায়ী মেয়র। বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কারণে এসব সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি’র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাকি তিন সিটির মধ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচন এখন ঝুলে আছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
২০১০ সালে জুনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়। ঐ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মঞ্জুর আলম ৯৫ হাজার ৫২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। পরাজিত হন তিনবারের মেয়র আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ঠিক পাঁচ বছর আগে প্রায় একই ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এরপর ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হন ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। তিনি এক লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী সরকারি দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট। নির্বাচনের আগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। সেলিনা হায়াত আইভী নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়েছিলেন। কিন্তু অনেক টানাপোড়েনের পর আওয়ামী লীগ সমর্থন দেয় শামীম ওসমানকে।
২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লায় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল হক নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আফজল খানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন তিনি। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর নবগঠিত রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু মেয়র নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টি (এ) থেকে বহিষ্কৃত মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে তিনি পরাজিত করেন। এ নির্বাচনে বিএনপির কোন হেভিওয়েট প্রার্থী ছিল না। সর্বশেষ গত শনিবার চার সিটির নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। রাজশাহীতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি, বরিশালে আহসান হাবিব কামাল এবং সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরীকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই চারটি সিটিতেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছিলেন।
