সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশ

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২২:৫১
সাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে-ঝাঁকে ধরা পড়ছে রূপালি ইলিশ। অধিকাংশ জেলেরা মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে জাল, নৌকা ও ট্রলার মেরামতের কাজ শেষে সাগরের উদ্দেশে রওয়ানা হচ্ছেন। প্রায় পনেরো দিন আগে থেকে ইলিশ ধরার মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে এবার পুরো মৌসুমে ঠিকমতো ইলিশ ধরা পড়লে গত বছরে নেয়া ঋণ শোধ করতে পারবেন বলে জেলেরা জানিয়েছে। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর সাউথখালী গ্রামের মহাজন হালিম শাহ বলেন, জেলেরা এখন নতুন ট্রলার তৈরি করে সাগরে মাছ ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের সাগর উপকূল কচিখালী এলাকার ইলিশ ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, আমরা এবার একটু দেরিতে সাগরে জেলেদের পাঠানোর কথা চিন্তা করছিলাম। কিন্তু গত মৌসুমে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় আমরা ২-১ দিনের মধ্যে সাগরে জেলেদের পাঠাবো। অভিযোগ করে তিনি বলেন, এক শ্রেণির মহাজনরা গেরাফী (নোঙ্গর) দিয়ে পাতানো জাল দিয়ে ইলিশ মাছ সংগ্রহ করছে। এ কারণে মাছ ধরার সময় ওই পাতানো জালে আটকে ভাসমান জালের অনেক ক্ষতি হয়। এ অবস্থা প্রতিরোধে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। জেলে ও মহাজনরা অভিযোগ করে আরো বলেন, আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাই। তবে সাগরে সারা মৌসুমেই ১০-১২ টি জলদস্যু বাহিনীকে নির্ধারিত চাঁদা দিতে হয়। অথচ সাগরে অসহায় জেলেদের নিরাপত্তা ও দস্যু দমনে সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। বাগেরহাট উপকূলীয় মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী বলেন, বন ও জলদস্যু বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আমরা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ চাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের প্রবেশের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি কামনা করছি। বাগেরহাট পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা বলেন, ইলিশ মৌসুমে সাগরে কোস্টগার্ড ও বন বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। তবে এবার বনদস্যুদের দমনে অন্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।