তানভীর, জেসমিন ও তুষারকে জেলগেটে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২২:৫৩
হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম এবং মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমেদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ঘটনায় গঠিত দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ব্যাংক থেকে ভুয়া ঋণ নেয়া এবং এলসি’র বিপরীতে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বাইরে আর কে কে তাদের সহযোগিতা করেছেন সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর দম্পতি ও তুষারের কাছ থেকে জালিয়াতির আরো কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এর আগে তানভীর মাহমুদ, তুষার আহমেদ ও আজিজুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জালিয়াতি ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে ঋণের নামে ব্যাংক থেকে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখাসহ একাধিক শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপ ও তাদের বেনামি প্রতিষ্ঠান এবং নকশি নিট কম্পোজিট, খানজাহান আলী সুয়েটার্স এবং ডিএন স্পোর্টসসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপ একাই সরিয়েছে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এই ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ পেয়েছে দুদক। অনুসন্ধানের পর পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও দুর্নীতির আলামত হাতে পেয়ে দুদক গত বছরের ৪ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ও হলমার্ক গ্রুপের এমডিসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীকালে দায়ের করা হয় আরও ২৬টি মামলা। এর মধ্যে প্রথম দফায় দায়ের করা ১১ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছে দুদকের তদন্ত টিমের সদস্যরা।