চার সিটি নির্বাচনের ফলাফলকে আওয়ামী লীগের জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাসেজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের আরো সচেষ্ট হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকার পরিবর্তনের যে ট্রেডিশন তা কি থাকবে না পরিবর্তন হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি খাজা মঈনুদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ বা এমটবের সেক্রেটারী নুরুল কবির, ইআরএফের কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ। ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম হারমাছি সমাপনী বক্তব্য দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত যেকোন সরকারের চেয়ে আমাদের সরকার বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। কিন্তু সিটি নির্বাচনে তার প্রভাব দেখা যায়নি। আর এজন্য অন্য কোন বিষয় কাজ করেছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোটের ফলাফলকে সিম্পলি নেগেটিভ বলা যেতে পারে না। চার মহানগরীতেই প্রতিদ্বন্দ্বীরা গুড মার্জিনে জিতেছে। আওয়ামী লীগের যেসব প্রার্থী ছিলেন তাদের মধ্যে কারো কারো রেপুটেশন খুব ভাল। এতেও যেহেতু কাজ হয়নি সুতরাং অন্যান্য বিষয়গুলো আমাদের খুঁজে দেখতে হবে।
ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আন্তরিকতার সঙ্গে যে রাজস্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে তা খুবই ইতিবাচক। তবে বাজেটের নির্ধারিত লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়নযোগ্য সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কালের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি এ প্রধান তিনটি কারণে বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লোকসান দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাজেট বিষয়ে বরাবরের মতই অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট মোটেও উচ্চাভিলাষী নয়। বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সমস্যা সবসময়ই ছিল। এখন এর উন্নতি হচ্ছে। কৃষি খাতের ভর্তুকির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা পাবলিক সেক্টর এবং অনেক বড় সেক্টর। যে পরিমাণ ভর্তুকি কমেছে সেটা কোন বিষয় নয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে ভর্তুকির বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির পদ্ধতিটাই ভুল। এ পদ্ধতি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা কিছু কাগজপত্র রেখে যাচ্ছি পরবর্তী সরকার এসে এটা পরিবর্তন করবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতি হচ্ছে, উচ্চশিক্ষার কিছু অবনতি সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। এটার কেবল অবনতিই হচ্ছে।
