জনগণ সরকারকে না বলে দিয়েছে

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২২:৫৮
চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে জনগণ বর্তমান সরকারকে ‘না’ বলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই ‘না’ বলে জনগণ সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে এই নির্বাচনের পরই সরকারের পদত্যাগ করা উচিত ছিল। খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ফলাফল একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। বৈরী ও প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। অনেক হুমকি, কালো টাকার ব্যবহার ও অনিয়ম সত্ত্বেও জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ যে ‘বার্তা’ দিয়েছে তা উপলব্ধি করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিএনপির দাবি মেনে নেয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চার সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির অংশগ্রহণ ‘বড়’ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকারের অধীনেই যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব তা চার সিটি নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে-আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি ধোপে টিকবে না। নির্দলীয় সরকারের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। চার সিটি নির্বাচনের রায়ে ওই দাবির প্রতি সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠন হয়। তাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। চার সিটির ফলাফলের এটিই মূল বাণী। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। নির্বাচনের রায় ক্ষমতাসীনদের মেনে নেয়া গণতন্ত্রের জন্য সুবার্তা বলে মনে করেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেনে নেয়া ছাড়া ক্ষমতাসীনদের আর কোনো উপায় ছিল না। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গঠন প্রক্রিয়া সংবিধানসম্মত হয়নি। সরকারের মনোনয়নে এই কমিশন গঠিত হয়েছে। সেজন্যই বর্তমান সরকারের অধীনে কাজ করার ক্ষেত্রে এ কমিশনের দুর্বলতা রয়েছে। আমরা চার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি করেছিলাম, কিন্তু কমিশন তা মেনে নেয়নি। বর্তমান কমিশনকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। শনিবার চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিএনপির পক্ষ থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ করার বিষয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, আগে কে কী বলেছেন, সেটা নিয়ে আর টানাটানি না করি। এখন এত বড় বিজয়কেই বড় করে দেখি। চার মহানগরীর ভোটারদের দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, চার সিটি করপোরেশনে মেয়রের সঙ্গে অধিকাংশ কাউন্সিলর পদেও বিরোধী দল সমর্থিতরা জয়ী হয়েছেন। বিরোধী দল সমর্থিত রাজশাহীতে ২৩, বরিশালে ২৪, খুলনায় ২৯ ও সিলেটে ১৯ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানান তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব আবদুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম আজাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।