তিন মহিলা এমপির বক্তব্য নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৩, ২৩:০০
বিএনপির তিন মহিলা এমপির বক্তব্যে গতকাল সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জাতীয় সংসদে শিশু বিল’২০১৩ এর উপর জনমত যাচাই ও বিলটি বাছাই কমিটিতে পাঠানোর জন্য বিরোধী দলের সদস্যদের দেয়া প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় তারা কঠোর ভাষায় সরকারের সমালোচনা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সরকার দলের কয়েকজন এমপি। স্পিকার বিরোধী দলের আনা বিলের প্রস্তাবের উপর আলোচনার জন্য নির্ধারিত দু’মিনিট করে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেন। সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া সরকারি দলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, চার সিটি করপোরেশনে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত রায় দিয়েছে। এই রায়, সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেয়ার বিরুদ্ধে রায়। মতিঝিলে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের উপর গণহত্যা চালিয়ে লাশ পুঁতে রাখার বিরুদ্ধে রায়। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড একাত্তর পরবর্তী সময়ে আর ঘটেনি। তিনি বলেন,সংসদে সরকার বিরোধীদলের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায়। তিনি সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা শহীদ জিয়াকে হত্যাকারী বলবেন না। এ সময় তার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে পাপিয়ার মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়। পাপিয়া বক্তব্য রাখার সময় সরকার দলীয় সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে হৈ চৈ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা চিত্কার করে প্রতিবাদ জানান। শেষ পর্যন্ত শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আবদুস শহীদ ফ্লোর নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তারা উভয়েই পাপিয়ার বক্তব্য কার্যপ্রণালী বিধির বাইরে বলে উল্লেখ করে বক্তব্য এক্সপাঞ্চ করার দাবি জানান। পাপিয়ার পর সদস্য রেহানা আক্তার রানু সরকারের সমালোচনা শুরু করলে সরকার দলীয় সদস্যরা প্রতিবাদ শুরু করেন। বক্তব্য বাদ দিয়ে রেহানা আক্তার রানু সরকারি দলের কয়েকজন মহিলা সদস্যের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলতে থাকেন, আমাদের কথা শুনতে হবে। আমরা যা বলবো তা শুনতে বাধ্য। আমরা বললে খারাপ লাগে। জনগণ দেখিয়ে দিয়েছে। সাবধান হন। বিএনপির আরেক সদস্য শাম্মী আক্তার বলেন, জনগণের টাকায় অস্ত্র কিনেছেন। আর জনগণকে গুলি করে মেরেছেন। জনগণ এটা সহ্য করবে না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের চারজন বিজয়ী হয়েছেন। মাত্র তো শুরু হয়েছে, এখানো বাকী আছে। বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত চিফ হুইপ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, চার সিটি নির্বাচনে জনগণ সরকারকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছে। এ কথা বলার পরই সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা হৈ চৈ করেন। প্রস্তাবের উপর আলোচনা শেষে জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের দেয়া বক্তব্যকে অবান্তর ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এরপর বিলটি কণ্ঠ ভোটে পাস হয়।