শান্তি মিশনে পাঠানোর নাম করে পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ভুয়া পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ও তার বান্ধবী সানজানা চৈতী পপি। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা ও শেরে বাংলানগর থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মশিউর রহমান ও সিনিয়র সহকারী এসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম সেগুনবাগিচা শিল্পকলা একাডেমী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। তাদেরকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আসাদের শান্তিনগরের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণার কাজে ব্যবহূত বিভিন্ন আবেদনপত্র, প্রবেশপত্র, জমির কাগজপত্র ও ছবি।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম জানান, প্রতারক আসাদুজ্জামানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আর একই এলাকায় বাড়ি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের। তিনি পুলিশের পিবিআই শাখায় কর্মরত। তবে দু’জনের চেহারায় কিছু মিল রয়েছে। একই চেহারা, একই ঠিকানা হওয়ায় প্রতারক আসাদুজ্জামান অতি সহজে নিজেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। আবার ক্ষেত্র বিশেষে নিজেকে পুলিশ সুপার পরিচয় দিতেন। তিনি ভাড়া নিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন। শান্তিনগরে বিলাসবহুল বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। প্রতিবেশীদের কাছেও একই পরিচয় দিতেন। আর আসাদুজ্জামানের প্রতারণায় সহায়তা করতেন তার বান্ধবী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সানজানা চৈতী পপি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুজ্জামান জানান, তিনি নিজেকে পুলিশের এসপি, এডিশনাল এসপি এবং এএসপি পরিচয় দিয়ে পুলিশের বিভিন্ন র্যাংকের সদস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানোর নামে, প্রমোশন পাইয়ে দেয়ার ও বদলি করে দেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে চাকরি দেবার নাম করে, জমির সমস্যা ও অন্যান্য সমস্যার বিভিন্ন লোকের নিকট তদবির করে মীমাংসা করে দেয়ার নাম করে প্রতারণা করেন।
আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশের প্রটেকশন বিভাগের কনস্টেবল জাকিরুল ইসলামের কাছে নিজেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলেন। এরপর শেরেবাংলা বাণিজ্য মেলার সময় প্রসেসিং ফি বাবদ দেড় লাখ টাকা নেন। অপরদিকে ডিএমপির কোতয়ালী থানার সাব-ইন্সপেক্টর মকবুল হোসেনকে জাতিসংঘ মিশনে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় এক লাখ টাকা। এরপর তাদের নিকট বিভিন্ন সময় আরো টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাদেরকে ঢাকার বাইরে বদলি করার হুমকি দেন।
ডিসিডিবি জানান, আসাদুজ্জামান ‘মিশনে লোক পাঠানোর’ জন্য প্রসেসিং ফি বাবদ অনেক টাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরে দিয়েছেন বলে দাবি করেন এবং এই টাকা পরিশোধ করার জন্য কনস্টেবল জাকিরুল ইসলাম ও সাব-ইন্সপেক্টর মকবুলকে চাপ দিতে থাকেন। এর ফলে পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হয় এবং তারা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি) এর সাথে যোগাযোগ করেন। এই যোগাযোগের ভিত্তিতেই গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসাদুজ্জামান জানান, সানজানা চৈতী পপি তার বান্ধবী এবং বিভিন্ন লোকের সাথে যোগাযোগ করার সময় তাকে সাথে করে নিয়ে যান। আসাদ বিভিন্ন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তার সাথে চলাফেরা করে তাদের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবি তোলেন। পরবর্তী সময়ে এইসব ছবি মানুষকে দেখিয়ে তার সাথে সম্পর্ক আছে এমন কথা প্রচার করে প্রতারণা করেন।
