কী করে এলো

চপস্টিক

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৩, ২০:৩৭
খাওয়ার জন্য বিশ্বের অনেক দেশেই সরু কাঠির মতো দেখতে দুটি বস্তু ব্যবহার করা হয়। চপস্টিক নামে পরিচিত এই বস্তুটি হয়তো আাামদের দেশে অতটা জনপ্রিয় নয়। তবে চীন, জাপান থেকে শুরু করে এশিয়ার অনেক দেশেই ভীষণ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এই চপস্টিকের। সেই সাথে আছে চপস্টিক নিয়ে নানা মজার গল্পও। মূলত পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ঠিক কী করে বা কতোবছর আগে এই চপস্টিকের প্রচলন হয়েছিল, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও এসব দেশে আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই চপস্টিকের প্রচলন ছিল। চীনের এক উপকথা থেকে জানা যায়, গরম খাবার সহজে মুখে পুড়ে দেয়ার জন্যই নাকি প্রাচীন এক ব্যক্তির মাথা থেকে এসেছিল এই চপস্টিকের ধারণা। উপকথা অনুযায়ী, একবার এক লোকের নাকি খুব ক্ষুধা লেগেছিল। অথচ, তার জন্য রান্না করা মাংস ছিল বেজায় গরম। কাজেই, গরম পাত্র থেকে মাংস তুলে মুখে দেওয়ার জন্য তিনি বেছে নেন সরু দুটো কাঠি। তারপর সেই কাঠি দিয়ে মাংস তুলে ফু দিয়ে ঠাণ্ডা করে খুব দ্রুতই খাওয়া শেষ করেন তিনি। আর এ থেকেই এতদঞ্চলের লোকেদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে চপস্টিক। আনুমানিক ৫০০ খ্রিষ্টাব্দে এই চপস্টিকের ব্যবহার পরিচিত হয়ে ওঠে বৃহত্তর চীন থেকে শুরু করে মঙ্গোলিয়া এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। মজার বিষয় হলো, আমাদের কাছে কিংবা ইংরেজিতে যে বস্তুটি চপস্টিক নামে পরিচিত, জাপানে সেই চপস্টিককেই বলা হয় ‘হাসি’, যার অর্থ হলো সাঁকো। চপস্টিক খাবার পে¬ট আর মুখের মাঝে সাঁকোর মতো কাজ করে বলেই এমন নাম। অন্যদিকে চীনে এর প্রচলিত নাম হলো ‘কু আই-জি’ বা চটপটে বন্ধু। চপস্টিকের মাধ্যমে খাওয়া দ্রুত শেষ করা যায় বলেই সম্ভবত এর এমন একটি নাম দিয়েছিল চীনারা। অন্যদিকে, নামের প্রকারভেদের মতো দেশে দেশে চপস্টিক দিয়ে খাবার গ্রহণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা সংস্কারও। উদাহরণস্বরূপ, জাপানে চপস্টিক দিয়ে খাবার পাশের জনকে দেয়া বারণ। কেননা, দেশটিতে মৃতদেহের সত্কারের সময় চপস্টিক দিয়ে মৃতের অস্থি-ভষ্ম আত্মীয়দের মাঝে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, চীনে যেমন কোনো দাওয়াতে হোস্ট যতক্ষণ তার চপস্টিক ভাতের পে¬টে রাখছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত অতিথিরা চপস্টিকে হাত দেন না। একইভাবে খাওয়া শেষে পে¬টের উপর পাশাপাশি চপস্টিক দুটি শুইয়ে দেয়াও চীনা রীতি।