বিজয়ের পর পরই রাজশাহী বিএনপিতে ফাটল!

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৩, ২১:১৪
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পরপরই রাজশাহী বিএনপির ইস্পাত কঠিন ঐক্যে ফাটল ধরতে যাচ্ছে। রাসিকের নবনির্বাচিত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু রবিবার পদত্যাগ করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে নগরীর হোটেল নাইসের সম্মেলন কক্ষে নবনির্বাচিত মেয়রের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও রাসিকের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফাসহ মহানগর ও জেলার বিএনপির নেতৃবৃন্দ। ওই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নবনির্বাচিত মেয়র বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপুকে মঞ্চে আসন দেয়া হয়নি। এতে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানের পরই মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুর কাছে তপু সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সূত্র জানায়, তপুকে মঞ্চে না ডাকায় ক্ষুব্ধ হন জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফাও। তিনি তপুকে মঞ্চে ডাকার জন্য আয়োজকদের অনুরোধ করলে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন তাকে (নাদিম মোস্তফা) বলেন, “এটা মহানগরের অনুষ্ঠান। আপনি জেলার নেতা। এখানে আপনার কোনো বিষয়ে নাক না গলানোই ভালো।” এনিয়ে বিএনপির নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, ‘আমার ভাই রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার চেয়ারম্যান। আমি পবা-মোহনপুর থেকে আগামীতে দলীয় টিকেটে সংসদ নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু অনেকেই সেটা চায় না। আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। মহানগর বিএনপির সভাপতিকে বলেছি, বেঁচে থাকতে আপনার সঙ্গে আর রাজনীতি নয়।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির নেতারা বলেন, বুলবুলের জন্য এত দিন ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তোফাজ্জল হোসেন তপু। অথচ তাকেই বুলবুলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে না ডেকে এক ধরনের অপমানই করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাদিম মোস্তফা বলেন, তপু ভাই পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়নি।’ মতামতের জন্য মিজানুর রহমান মিনু ও শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।