পাঁচ মোবাইল কোম্পানির বিনিয়োগ ৫৬ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৩, ২১:৪০
বিদেশি পাঁচটি মোবাইল কোম্পানি বাংলাদেশে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা ১০ কোটি ১২ লাখ। এদিকে দেশে বিটিসিএল-এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। আর বিটিসিএল-এর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ রয়েছে ৭৪৭টি। সোমবার সন্ধ্যায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন সংসদকে এ কথা জানান। মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর মধ্যে গ্রামীণফোন সবচেয়ে বেশি ২১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া আজিয়াটা বাংলাদেশ লিমিটেড (রবি)-এর বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা, ওরাসকম বাংলাদেশ লিমিটেড (বাংলালিংক) বিনিয়োগ করেছে ১৪ হাজার ১১২ কোটি টাকা, এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড আট হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা এবং প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড এক হাজার ৪৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তিনি আরও জানান, বিদেশি মোবাইল কোম্পানিগুলোর মধ্যে গ্রামীণফোন ও রবি লভ্যাংশ দেশের বাইরে প্রেরণ করেছে। গত বছর গ্রামীণফোন এক হাজার ৫১ কোটি টাকা লভ্যাংশ বিদেশে প্রেরণ করেছে। কোম্পানিটি ২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত লভ্যাংশ বিদেশে প্রেরণ করে। এছাড়াও রবি ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ২০৪ কোটি টাকা লভ্যাংশ বিদেশে প্রেরণ করেছে। অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাহারা খাতুন জানান, পাঁচটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। দেশের সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের সাথে জড়িত কোন হ্যাকারকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা তিন কোটি ৩০ লাখ। মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিকের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আপাতত মোবাইল ফোনের কলচার্জ কমানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই। মোবাইল ফোনের কলরেট সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা প্রতি মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দুই টাকা প্রতি মিনিট নির্ধারণ করা আছে। এছাড়াও ১০ সেকেন্ড পাল্স চালুর ফলে গ্রাহকরা কথা বলায় অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। বেগম সুলতানা বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সারাদেশে বিটিসিএল-এর টেলিফোন এক্সচেঞ্জের সংখ্যা ৭৪৭টি। এসব এক্সচেঞ্জ সকল বিভাগীয়, জেলা, ৪৮৪টি উপজেলার মধ্যে ৪৭৮টি উপজেলা শহর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৬০টি গ্রাম ও ব্যবসা কেন্দ্র পর্যায়ে রয়েছে। এক্সচেঞ্জগুলোর গ্রাহক সংযোগ ক্ষমতা ১৪ লাখ। বর্তমানে গ্রাহক রয়েছে প্রায় ১০ লাখ। ফজিলাতুন নেসার আরেক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দেশে সকল জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর ও গুরুত্বপূর্ণ উপ-ডাকঘরসহ সর্বমোট দুই হাজার ২৫০টি পোস্ট অফিসে মোবাইল মানি অর্ডার সার্ভিস চালু আছে। এই সার্ভিসের মাধ্যমে ডাক বিভাগ এ পর্যন্ত ৬২ কোটি ১৪ লাখ টাকা আয় করেছে।