তেজগাঁওয়ে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৩, ২২:৫৪
রাজধানীর তেজগাঁও ও গাজীপুরে গতকাল সোমবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দুই পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিকসহ ১৭ জন আহত হয়। তেজগাঁওয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ইউডা পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংর্ঘষ হয়। পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুই শ্রমিক আহত হয়। অবরোধের সময় নাবিস্কো-গুলশান লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট। বিকাল সোয়া তিনটার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে আজ মঙ্গলবার মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস পাওয়ার পর শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ইউডার শ্রমিকরা সকালে কাজে এসে দেখে কারখানার গেটে তালা ঝুলানো। এতে শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা রাস্তা অবরোধ ও ভাংচুর শুরু করে। পাশাপাশি আশপাশের পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের নেমে আসার আহ্বান জানায়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, দুপুরের দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মালিকপক্ষ, বিজিএমইএ ও শ্রমিকদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে। এদিকে, হাজিরা বোনাস ও টিফিন বিল বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের ইউনিগিয়ার্স পোশাক কারখানায় গতকাল সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ শ্রমিক আহত হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরাতে গেলে শিল্প পুলিশের সাথে শ্রমিকদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছবি তুলতে গেলে পুলিশ জিটিভির গাজীপুর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির গাজীপুর প্রতিনিধি আবুল হাসানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঠিপেটা করে।