আজ মঙ্গলবার থেকে তিন পার্বত্য জেলায় আবারও টানা ৭২ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিয়েছে বাঙালিদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনরত সংগঠনগুলো। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধিত) আইন-২০১৩ জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হওয়ার প্রতিবাদে গত রবিবার রাতে ঢাকায় নেতৃবৃন্দের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধন এবং স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। হরতাল ডাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক কামরান ফারুক। এর আগে সমঅধিকার আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন গত ৯-১১ জুন একই দাবিতে টানা ৭২ ঘণ্টার হরতাল পালন করেছিল।
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, গতকাল সোমবার সকালে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও বাঙালি ছাত্র পরিষদের এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হরতালের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়, গত রবিবার আইনের সংশোধনী প্রস্তাবটি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হওয়ায় পার্বত্যবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এই সংশোধনী পাস হলে পাহাড়ে অশান্তি আরো বাড়বে। পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি হবে। তাই প্রস্তাবটি বাতিল করে স্থানীয় নেতাদের মতামত নিয়ে নতুন করে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন প্রণয়ণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ঢাকায় অনুষ্ঠিত সংগঠনগুলোর সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভুঁইয়া। সভায় অন্যদের মধ্যে ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইসমাঈল নবী শাওন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ রাজু, ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, সংশোধনী প্রস্তাবটি নিয়ে খাগড়াছড়িতে বসবাসরত বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কার্যত পাহাড়ি ও বাঙালিরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বাঙালি সংগঠনের নেতারা জানান, প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আবারও অশান্ত হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। কারণ এর ফলে বাঙালিরা ভূমির অধিকার হারাতে পারেন। এদিকে আইনটি বাতিলের দাবিতে গত রবিবার খাগড়াছড়িতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কয়েকটি সংগঠন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার জাতীয় সংসদে ভূমি কমিশন সংশোধনী আইনটি বিল আকারে উত্থাপিত হয়। সংসদের আগামী অধিবেশনে বিলটি আইনে পরিণত হতে পারে।
