বিদ্যুত্ বৈষম্যের শিকার চট্টগ্রাম

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৩, ২২:৫৭
চট্টগ্রামে বিদ্যুতের বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রামের বিদ্যুত্ কেন্দ গুলোতে দিনের বেলায় উত্পাদনে ধস নেমেছে। বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুত্ পাওয়া যাচ্ছে না। লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শিল্প-কারখানায় উত্পাদনে ধস ও জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পিডিবি’র কর্মকর্তারা জানান, দিনের বেলায় জাতীয় গ্রিড থেকে ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াটের বেশি পাওয়া যায় না। বিদ্যুত্ এই আসে, এই যায়। গ্রামের অবস্থা আরো খারাপ। দিনে-রাতে সমানে চলছে লোডশেডিং। গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তার উপর বিদ্যুতের লোডশেডিং দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। পিডিবি জানায়, দিনের বেলায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রামে দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা দৈনিক প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট। আর বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। পিডিবি’র কর্মকর্তারা জানান, পিক-আওয়ারে অর্থাত্ সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট, বিপরীতে বরাদ্দ মিলে প্রায় সাড়ে ৫০০ মেগাওয়াট। পিডিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানায়, চট্টগ্রামে কয়েক হাজার শিল্প-কারখানা রয়েছে। আবাসিক সংযোগ চার লাখের বেশি। পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে মাসে প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। তার মধ্যেও চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। দিনের বেলায় বিদ্যুতের ভয়াবহতা ও শিল্প-কারখানার উত্পাদনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বরাদ্দ বাড়ানোর সাড়া মিলছে না। চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ কেন্দ গুলোতে গ্যাস, পানি ও ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়। গ্যাস সংকটে শিকলবাহায় ৬০ ও ১৫০ মেগাওয়াটের দু’টি বিদ্যুত্ কেন্দ বন্ধ রয়েছে। প্রাপ্ত গ্যাস দিয়ে রাউজান বিদ্যুত্ কেন্দে র দু’টি ইউনিট থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যায়। এছাড়া কাপ্তাই লেকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে না। ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৪টি চালু রয়েছে। তবে শুধুমাত্র সন্ধ্যার পরে ইউনিটগুলো চালু করা হয়। ৪টির উত্পাদন ক্ষমতা দৈনিক ১৮০ মেগাওয়াট হলেও ১০০ মেগাওয়াটের বেশি উত্পাদন করা যায় না। অন্যদিকে হাটহাজারী, দোহাজারী ও পটিয়ায় জুলধায় অবস্থিত ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ ৩টি থেকে সন্ধ্যার পর পিডিবি’র চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুত্ উত্পাদন করেন তারা। তবে এই ৩টি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয়। আবাসিক গ্রাহকের মতো শিল্প-কারখানায় উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গার্মেন্টসসহ শিল্প-কারখানায় মালিকরা নিজস্ব ট্রান্সফরমার কিনে পিডিবি’র অনুমোদন নিয়ে ব্যবহার করেন। শিল্প মালিকরা অভিযোগ করেছেন ট্রান্সফরমারের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুত্ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কারখানায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেশিনগুলো চালু রাখা সম্ভব হয় না। এতে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের অবস্থা আরো খারাপ।