দু’জনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। নামও একই। চেহারায়ও মিল রয়েছে কিছুটা। এখানেই যত ঝামেলা। তবে কারো সঙ্গে কারো পরিচয় গভীর না হলেও ২০ বছর আগে ক্রিকেট খেলেছিলেন এক সঙ্গে। নাম আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ। একজন আসল পুলিশ কর্মকর্তা অন্যজন ভুয়া। আর ভুয়া পুলিশের কর্মকাণ্ডে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন আসল পুলিশ কর্মকর্তা। যিনি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত রয়েছেন পুলিশের পিবিআই শাখায়। কর্মস্থল রাজধানীর আব্দুল গনিরোডস্থ পুলিশ কন্ট্রেল রুম। প্রতারণার অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ শনিবার সেগুনবাগিচা শিল্পকলা একাডেমীর সামনে থেকে গ্রেফতার করে ভুয়া পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ (৩৬) ও তার বান্ধবী সানজানা চৈতী পপিকে (৩২)। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রবিবার শেরেবাংলা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পুলিশের পিবিআই শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি তিন বছর আগে কর্মরত ছিলেন র্যাবে। দায়িত্ব ছিল পাবনায়। সেই সময় থেকেই ভুয়া পুলিশ আসাদুজ্জামান তার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিল। আর এ নিয়ে তিনি ছিলেন চরম বিব্রতকর অবস্থায়। একই এলাকার বাসিন্দা হলেও আসাদুজ্জামানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিচয় ছিল না। তবে গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি তাকে সনাক্ত করেন। তার সঙ্গে প্রায় ২০ বছর আগে এলাকার এক মাঠে ক্রিকেট খেলেছেন।
তিনি বলেন, মহানগর গোয়েন্দা দফতরে রবিবার রাতেই তার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, গত চার বছর ধরে যে অপবাদ বয়ে বেড়াচ্ছিলাম তার অবসান হয়েছে। ভুয়া পুলিশ আসাদুজ্জামান গ্রেফতার না হলে হয়তো সবাই বিশ্বাস করতো আমি নিজেই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ভুয়া পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। সে জানিয়েছে, ৮৯ সালে এসএসসি পাস করেছে। এরপর আর পড়াশুনা করেনি। এক সময় সে আমের ব্যবসা করতো। পাশাপাশি নকশী কাঁথার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের র্যাবে কর্মরত অবস্থায় পোস্টিং ছিল পাবনায়। আর ঐ সময় থেকেই আসাদুজ্জামান নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছে। ঐ সময় পাবনার অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সর্বশেষ অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি হবার পর থেকে ভুয়া পুলিশ আসাদুজ্জামান প্রতারণায় নতুন মাত্রা যোগ করে।
তিনি বলেন, শেরেবাংলা নগর বাণিজ্য মেলা চলাকালীন সময় ভুয়া পুলিশ আসাদুজ্জামান একটি দামি গাড়িতে এক বান্ধবীকে নিয়ে সেখানে যায়। নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেবার পর বাণিজ্যমেলার গেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাকে ভেতরে যেতে দেয়। ঐ সময় দায়িত্বরত কয়েকজন কনস্টেবলকে মোবাইল নম্বর দিয়ে জানায়, জাতিসংঘ মিশনে যেতে চাইলে যেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ অবস্থায় প্রোট্রেকশন বিভাগের কনস্টেবল কনস্টেবল ( কং ২২০৯৫) জাকিরুল ইসলাম তার সঙ্গে যোগাযোগ করে শান্তি মিশনে যাওয়ার জন্য এক লাখ টাকা প্রদান করেছিলেন। আর এই টাকা নেয়ার জন্য বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের বান্ধবী সানজানা চৈতী পপি সম্পর্কে এসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পপি তার অভিযোগ সম্পর্কে বলেছেন, তিনি আসাদুজ্জামানের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন। দুই মাস আগে আসাদুজ্জামানের সঙ্গে তার পরিচয়। পপি ১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছেন। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে বিয়ে করেননি। এদিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ ীয় কমিটির সভাপতি নূরী আরা সাফা একং সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, সানজানা চৈতী পপি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রী নন। তার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।
