‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলে নির্বাচনই হবে না’ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। এতে আমাদের উদ্বেগ আরো বেড়ে গেছে। তার বক্তব্যে আমরা স্বৈরাচারী ভাষা দেখতে পাচ্ছি। তিনি এমন কথা বললে দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র থাকবে কি না তা আমরা জানি না। তবে আমরা আশা করি সরকার জনগণের ভাষা বুঝবেন এবং জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন।
গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৮ দলের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
এ সময় ১৮ দলের সব নেতাকর্মীর মামলা প্রত্যাহার, মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আগামী ২২ জুন শনিবার সব উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল। এর আগে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ১৮ দলের মহাসচিব পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ড. রেদোয়ানুল্লাহ শাহেদী, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতী মুহাম্মদ তৈয়্যেব, এলডিপির ড. রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার খন্দকার লুত্ফর রহমান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিসের ড. আহমদ আব্দুল কাদের, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া প্রমুখ ।
মির্জা ফখরুল বলেন, চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণ ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করায় বৈঠক সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং একে সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণের রায় হিসেবে মনে করেছে। সিটি নির্বাচনে জনগণের ভোটে ১৮ দলের প্রার্থীর বিজয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সিটি নির্বাচনের ফলাফল উপলব্ধি করে সরকারকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সংবিধানের নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে পুনর্বহাল করবে।
এদিকে কাশিমপুর কারগার থেকে মুক্তির পর রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির আতাউর রহমানকে জেলগেটে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তার মুক্তি দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।
