আমার কথা

মাহবুব রেজা

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ১৮:২০
লেখালেখির ঘটনাটা বলি। ১৯৮৬ সাল। তখন আমি কলেজে পড়ি। ঢাকা সিটি কলেজে। আমার এক বন্ধু ছিল ওর নাম শাহ নিসতার জাহান। ও লেখালেখি করত। সপ্তাহের কোনো না কোনো দিন নিসতার হয়ে দৈনিক দেশ, না হয় দৈনিক সংবাদ কিংবা দৈনিক আজাদ পত্রিকা কলেজে নিয়ে আসত— কারণ ওর গল্প ছাপা হতো সেসব পত্রিকায়। নিসতার যখন পত্রিকা নিয়ে ক্লাসে ঢুকত তখন পেপারের জন্য কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। ছেলেমেয়েরা ওর কাছ থেকে পেপার নিয়ে পড়ত। তো এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লাগল। আমার মনে হতো, আহা আমারও যদি নিসতারের মতো পত্রিকায় গল্প ছাপা হতো! সেই থেকে লেখালেখির শুরু আমার মনে হয় আর সবার মতো আমিও ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ পড়ে আলোড়িত হয়েছিলাম। তারপর আরও অনেক লেখা আমার বোধ, মনন আর মনোজগেক সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রগতি প্রকাশন থেকে বের হওয়া রাশিয়ান রূপকথার বইগুলোও আমার লেখালেখির পরিসরকে বিস্তৃত করতে সহায়তা করেছে। আমার প্রথম লেখা প্রকাশের পর কেমন অনুভূতি হয়েছিল তা বলে বোঝানোর কোনো বিষয় নয়। দাদাভাইয়ের পাতায় আমার প্রথম লেখা ছাপা হয়েছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭ সালে। দৈনিক ইত্তেফাক-এর ‘কচি কাঁচার আসর’ তখন ছিল নাম করা পাতা। একদিকে কচিকাঁচার আসর অন্যদিকে দৈনিক বাংলার ‘সাত ভাই চম্পা’। আমার সৌভাগ্য আমি এই দুই পাতার সম্পাদক যথাক্রমে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই ও আফলাতুন ভাইয়ের স্নেহ ও ভালবাসা পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই আমি একজন ভালো মানুষ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলাম। এখনো আছি। নিজের লেখাকে প্রিয় বলার কোনো যৌক্তিক কারণ আমি দেখি না। আমার স্মরণীয় স্মৃতি হলো—১৯৭৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আর ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার— মাত্র ৪৮ দিনের ব্যবধানে আমার মা আর আমার বাবা মারা যান। আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্মরণীয় স্মৃতি বলতে আমি এই দুটো দিনকেই বুঝি। ১৯৬৯ সালের ১৫ নভেম্বর পুরান ঢাকায় আমার জন্ম। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু। প্রচুর দেশ-বিদেশ ঘুরেছি। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি চাকরি ছেড়ে ২০০২ সালে বিদেশে চলে যাই। গত তিন বছর ধরে দেশের শীর্ষ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘সাপ্তাহিক ২০০০’-এর বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করছি। আমার অর্ধশতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে সব বইকেই আমি উল্লেখযোগ্য বলে মনে করি। তবে ‘সব গল্পই পুরান ঢাকার’, ‘এই গল্পটা মুক্তিযুদ্ধের’, ‘এই গল্পটা বঙ্গবন্ধুর’, ‘হাবলু’, ‘লক্ষ্মীট্যারা ইফতি’, ‘ঘটনাটা আমাদের মহল্লার’, ‘ছাতিমগাছের ছায়া’ আমার কাছে বিশেষভাবে প্রিয়। আমার লেখা পড়ে বাংলাদেশের অনেক বড় বড় লেখক এবং সাধারণ মানুষ আমার প্রশংসা করেছেন। এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী-ই হতে পারে!