সবাই মিলে পড়াশোনা

নিজেকে বদলে ফেলার পালা

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ১৮:৩৫
সবাই মিলে পড়াশোনা। কাজ করে অনেকটা টনিকের মতো। দুর্বোধ্য বিষয়ও আলোচনায় সহজ হয়ে যায়। যেনো সবার পড়া সবাই মিলে। কেউ এক বিষয়ে ভালো। আবার অন্য বিষয়ে দুর্বল। এক্ষেত্রে সবাই মিলে পড়াশোনা ভালো ফল দেয়। সবাই মিলে পড়াশোনা অনেকটা টিমওয়ার্কের মতো। কয়েকজন বন্ধু মিলে একসঙ্গে পড়াশোনা করা। যে বিষয়ে যে ভালো, সে বিষয়ে সে আলোচনা করে। আর এই আলোচনার মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলোও অনেকের কাছে পানির মতো সোজা হয়ে যায়। পাঠ্যবইয়ের পড়া ছাড়াও নোট তৈরি, অ্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করা এসব কাজও বন্ধুরা সবাই মিলে একসঙ্গে করতে পারে। এজন্য সাধারণত ক্যাম্পাস, লাইব্রেরি বা অনেক সময় শ্রেণিকক্ষও বেছে নেয়া হয়। এ জন্য আলাদা কোনো জায়গার প্রয়োজন হয় না। লেখাপড়ার সব ক্ষেত্রেই সবাই মিলে পড়াশোনা খুবই কাজে লাগে। নোট করতে গেলে অনেক বই একসঙ্গে করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তো রেফারেন্স বইয়ের কোনো সীমারেখা থাকে না। এত বই খুঁজে বের করা যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি সময়সাপেক্ষ। অনেক সময় ইন্টারনেটে সার্চও করতে হয় বাড়তি তথ্যের জন্য। এ ছাড়া অ্যাসাইনমেন্ট বা নোট তৈরি করতে দেশি-বিদেশি পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, গবেষণাপত্র প্রভৃতিও ঘাটতে হয়। একা কারো পক্ষেই একসঙ্গে এত কাজ করা কষ্টকর। এসব কাজ যদি সবাই মিলে করলে অনেক সহজ হয়ে যায়। বইয়ের কোনো তত্ত্ব বা সূত্র মাথায় ঢুকছে না। ক্লাসে স্যারের গুরুগম্ভীর লেকচার বুঝতে পারেননি। কিংবা শ্রেণিকক্ষের পেছনের দিকে বসার কারণে স্যারের লেকচার পুরোপুরি শুনতেও পাননি। এসব পরিস্থিতিতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। যদি সবাই মিলে একসঙ্গে পড়াশোনা করেন। ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসের সবুজ চত্বরে বসেই যদি সহপাঠীদের সঙ্গে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা যায়। অনেক বিষয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছে লজ্জা বা সংকোচের কারণে জিজ্ঞাসা করতে পারে না। তবে বন্ধুদের কাছে অনায়াসেই সে প্রশ্ন করা যায়। আর শিক্ষককে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটি বিষয় একাধিক বার জিজ্ঞেস করা যায় না। কিন্তু না বুঝতে পারলে বন্ধুদের কাছে বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা যায়। এমন অনেক ছাত্র আছে, যারা পড়াশোনায় দুর্বল। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় সবাই মিলে পড়তে এসে দুর্বল ছাত্ররাও ভালো ছাত্রদের সংস্পর্শে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। পড়াশোনায় মন না থাকলেও সবার সান্নিধ্যে এসে পড়ায় মনোযোগও চলে আসে। কোনো বিশেষ বিষয়ে বারবার খারাপ করার কারণে অনেকের কাছে সেটি ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই জিনিসগুলোই যদি সহপাঠীদের কাছ থেকে বুঝে নেয়া যায় তবে বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। এভাবে সবাই মিলে পড়াশোনা করলে সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাসও চলে আসে। আর এই আত্মবিশ্বাস ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করে।