‘আমি ভাগ্য বলে কিছু বিশ্বাস করি না। যা করি তা হলো নিজেকে পরিবর্তন। প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। অধ্যবসায় করছি। অধ্যয়নে মগ্ন থাকছি। আর সুদিনের অপেক্ষা করছি’— কথাগুলো বলেই একটু থামলেন ছেলেটি। চিকনচাকন গড়ন। চোখে চশমা। গায়ের রং শ্যামলা। এরপর থেমে আবার বললেন, ‘আমাকে অনেকদূর যেতে হবে। দুঃখী বাবার স্বপ্নটা পূরণ করাই এখন আমার কাজ। সবাই তাকিয়ে আছে। ইউনিভার্সিটির স্যারও ভালো কিছু প্রত্যাশা করে। মাঝে মাঝে ভয় হয়। পারবো তো আমি?’ এতাক্ষণ যার কথা বলা হচ্ছিল তার নাম মো: অছিউর রহমান। চট্টগ্রাম ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র। যিনি দারিদ্র্যকে কাটিয়ে উচ্চ শিক্ষার শেষ শেখরে এসে পৌঁছেছেন। তবে এতোখানি পথ আসতে তাকে কম প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়নি। বাবা মোজাফ্ফর আহমেদ। একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিন ছেলে আর দুই মেয়ের মধ্যে অছিউর রহমান তার দ্বিতীয় সন্তান। এই সন্তানটিকে নিয়ে তার বড্ড বেশি আশা। কিন্তু উচ্চ শিক্ষায় পড়াতে টাকার খরচটা যে একটু বেশি! তাই আর্থিক অসচ্ছলতা দিন দিন গ্রাস করছিলো পুরো পরিবারকে। এই দেখে দমে যাননি মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মেধাবী অছিউর। এসএসসি, এইচএসসি শেষ করে এখন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পথে। ভবিষ্যতে একজন ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সময়ের তারকা অছিউর। ছোট ভাই-বোনগুলোকেও শিক্ষিত করতে চান তিনি। ‘প্রেম করেন?’-প্রশ্ন করতেই কিছুটা লাজুক ভঙ্গিতে বললেন, ‘সময় কোথায়। টিউশনি করতে হয়। ক্লাস শেষ করে স্টুডেন্টদের বাসায় চলে যাই। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সুখ-দুঃখ শেয়ার করি। আমার জন্য দোয়া করবেন।’
