জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন অতিবাহিত করলেন একটি বছর। নানা ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করে আগামীদিনে স্বপ্নের জাহাঙ্গীরনগর গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন নাজমুল হক জেনিথ—
ইত্তেফাক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হিসেবে একবছর। এ বিষয়ে কিছু বলুন।
একটি বছর পেরিয়ে গেছে। মনে হয় যেন সেদিন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলাম। কত দ্রুত সময় পেরিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে আমি কতটা সফল বা ব্যর্থ, তা আমার পক্ষে বলা দুরূহ। তবে যে সংকট-সমুদ্রে নেমেছিলাম সেখান থেকে উত্তরণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছি।
ইত্তেফাক: আপনি দেশের একমাত্র নির্বাচিত ভিসি। এ বিষয়ে অভিমত।
আমাদের হাতে রয়েছে মহান স্বাধীনতার অর্জন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩। একমাত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী নির্বাচিত ভিসি হিসেবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে আমার দায়িত্ব গ্রহণের দু’মাসের মধ্যে। প্রবল বাধার মধ্যেও তা সম্পন্ন করেছি।
ইত্তেফাক: দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নেই। জাকসুর ব্যাপারে আপনার ভাবনা?
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা এখনও সফলতার মুখ দেখতে পারিনি। সে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে জোরালো আবেদন ও সে অনুযায়ী সহনশীল পরিবেশ এখনও গড়ে ওঠেনি।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে আপনার চিন্তা কি?
৭০০ একর জায়গা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এর সম্ভাবনা অপার। আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে পূর্ণাঙ্গ চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং ফিল্ম ইনস্টিটিউট। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ হবে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থাকবে তাতে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে থাকবে নতুন উইমেন ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ। আমাদের নয়নজুড়ানো লেক আছে, আছে দ্বীপ। সর্বাধুনিক কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ করব আমরা, পাবলিক-প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজের আওতায়। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
ইত্তেফাক: শিক্ষকদের একটি আন্দোলন চলছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য।
শিক্ষক সমিতি আমার পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং আন্দোলন করছেন। আজ বর্ষপূর্তির দিনে এসব কথা একে একে মনে পড়ছে। তারপর নিজেকে প্রশ্ন করেছি, সাফল্য কিংবা আশাবাদী হওয়ার মতো কিছুই কি ঘটেনি? আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। উত্তর পেতে দেরি হয় না। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বপ্নে জাহাঙ্গীরনগর গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কতটুকু সফল মনে করেন?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে প্রত্যয় ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলাম সে স্বপ্ন এখনও সজীব আছে। যেমন সজীব আছে ২০২১ সালের মধ্যে সোনার বাংলার সিংহদ্বারে পৌঁছে যাওয়ার।
