তারকা কলাম

সব স্মৃতি বলতে গেলে মহাকাব্য হবে...

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২০:৩৬
নাটক অন্তঃপ্রাণ মানুষ ছিলেন আতিকুল হক চৌধুরী। মৃত্যুর মাত্র কিছুদিন আগেও তার নাটক নির্মাণের মোহ, আবেগ, তাড়না এতটুকু কমেনি। বরেণ্য এই নাট্যব্যক্তিত্বকে নিয়ে তার প্রয়াণে স্মৃতিচারণ করেছেন আরেক নাট্যজন, তারই ভাবনার চিরসঙ্গী নাট্যকার, নির্মাতা অভিনেতা মামুনূর রশীদ কোনো স্মৃতিচারণ আসলে এভাবে তাকে নিয়ে লিখতে গেলে মহাগ্রন্থ হয়ে যাবে। সংক্ষেপে এটুকু বলা যায়, তার মতো নাটক অন্তঃপ্রাণ এ দেশে আর কেউ ছিলেন না। তিনিও চলে গেলেন। ব্যক্তিজীবনের শুরুতে বেতারে, এরপর বিটিভিতে তারপর একাধিক স্যাটেলাইট চ্যানেলের সর্বত্রই তিনি তার নাটক, নাট্যভাবনা নিয়ে খুব সচেতন ছিলেন। বারবার এই প্রজন্ম অবক্ষয়ের কথা তিনি বলতেন। আড্ডা, আলাপে সেগুলোই উঠে আসত। সর্বশেষ তার বাসায় গেলাম আতিক ভাইকে দেখতে। ভীষণ অসুস্থ। কথা বলতেও আড়ষ্টতা। তার ভেতরেও নাটকের কিছু খবর নিচ্ছেন। কোথায় কী হচ্ছে শুনতে চাইছেন। এমন নাটকপাগল মানুষ সত্যিই দেখা হয়নি আমার এক জীবনে। সবাইকে চলে যেত হবে। চলে যেতে হয়। কিন্তু তিনি নিজ হাতে যে ক’জন তারকাকে গড়েছেন, এমন তারকা গড়ার কারিগররা গেলে এক বড় শূন্যতার জন্ম হয়। হয়তো শেষ বয়সে খুব বেশি কাজ করতেন না। কিন্তু কিছু ব্যক্তিত্ব যেমন আমাদের আঁধার জীবনের আলোকবর্তিকার মতো। কোনো বড় আয়োজনের সবচেয়ে মূল্যবান আসনটিতে যেমন বসানোর জন্য ততোধিক আলোকিত মানুষকে বসাতে। সেইরকম মানুষের সংখ্যা আমাদের হাতে গোনা। আতিক ভাই সেই চেয়ারের মানুষ ছিলেন। অপরিহার্য যা আমার... আমাদের জীবনের জন্য। তার শান্তি কামনা করতে গিয়ে এইসব শত শত কথা বলা যাবে। নিরেট সদালাপী। তার সর্বশেষ নাটকটিতেও অভিনয় করেছি আমি। তার সম্পর্কে বারবার বলতাম, আতিক ভাই, সবকিছু আপনি এত লম্বা কেন করেন। তিনি হাসতেন। অর্থাত্ ফ্লোরে কোনো শুটিং হলেই দেখা যেত ডায়লগগুলো আরও বড় করতেন। আমি বলতাম, আতিক ভাই সবকিছু এক নাটকেই বলে দিতে চান আপনি। তিনি বলতেন, ‘আরও অনেক কিছুই তো বলতে চাই। পারি না। আরও অনেক কিছু বলা দরকার। মানুষের অনুভূতিতে আরও অনেকখানি নাড়া দেওয়া দরকার নাটক দিয়ে। তেমনটা হচ্ছে আর কই?’ আতিক ভাইয়ের কথার সাথে আমিও একমত। ভালো থাকুন। আপনার আত্মার মাগফেরাত কামনায়। শ্রদ্ধা।