রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ১৩ শতাংশে রাখার প্রস্তাব ইপিবি’র

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২০:৩৯
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা দিয়েছেন আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ধরা হবে। তবে তার এ ঘোষণার সঙ্গে একমত নয় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না বলেই ধরে নিয়েছে ইপিবি। চলতি অর্থবছরে পূর্ববর্তী বছরের রপ্তানির উপর ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ২ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। ইপিবি মনে করছে, জুনের শেষ নাগাদ এটি ২ হাজার ৭০৬ কোটি ডলারে ঠেকতে পারে। এই অবস্থায় আসছে অর্থবছরে ১৫ শতাংশ হারে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরতে নারাজ ইপিবি। ইপিবি মনে করে, চলতি অর্থবছরের সম্ভাব্য রপ্তানির উপর লক্ষ্যমাত্রা ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ ধরে ৩ হাজার ৫৭ কোটি ডলার হওয়া উচিত। এ রকম একটি খসড়া লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করে ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সমপ্রতি ইপিবি রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধান রপ্তানি আয় অর্জনকারী তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিজিএমইএ ওভেন রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা ১৩ শতাংশের মধ্যে এবং বিকেএমইএ নিটওয়্যার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশে রাখার পক্ষে মত দেয়। সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা বাতিল করার প্রস্তাব করায় বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, শ্রমিক অসন্তোষ, আমদানিকারকদের নানামুখী শর্তের কারণে প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। এ খাতের রপ্তানির উঠা-নামা সার্বিক রপ্তানি আয়কে প্রভাবিত করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেয়া হবে।