নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দুইটি রেজিস্ট্রি অফিসের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৫ শতাধিক দলিল লেখক, ২ শতাধিক নকল নবিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্ট্রার শান্তি রঞ্জন হাজরা, নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৪ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, মহাপরিদর্শক নিবন্ধন খান মোঃ আব্দুল মান্নান, সাবেক মহাপরিদর্শক নিবন্ধন মুন্সী নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে নিয়মানুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গত দুই বছর ধরে ফাইল চালাচালি করলেও বর্তমানে তা অজ্ঞাত কারণে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে। এ নিয়ে রূপগঞ্জ দলিল লেখক নকল নবিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
১৯০৮ সালে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির উপর রূপগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিস স্থাপিত হয়। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ২০১১ সালে ৪ মে রূপগঞ্জ পূর্ব রেজিস্ট্রি অফিস নামে আরো একটি রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। বছরে এখানে ৫০ সহস্রাধিক দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে।
১৯০৮ সালে একটি টিনের ঘরে শুরু হলেও সেই স্থানেই চলছে রূপগঞ্জ পূর্ব রেজিষ্ট্রি অফিস কার্যক্রম। ১৯৭৮ ও ১৯৯৮ সালে নির্মিত ভবনের দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। কোন কোন স্থানে রড বেরিয়ে গেছে। ফ্লোরে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দলিল লেখক ও নকল নবিশসহ সংশ্লিষ্টরা মারাত্মক ঝুঁকিতে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। আকাশে মেঘ দেখলেই তারা চমকে ওঠেন। এই বুঝি গেল প্রাণ। প্রয়োজনীয় জমি থাকা সত্ত্বেও চাহিদা অনুযায়ী এখানে ভবন নির্মাণ করা হয়নি। শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের মানুষ তুলনামূলকভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত রয়ে গেছে। একটি প্রভাবশালী মহল রূপগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিস নদীর পূর্বপাড়ে স্থানান্তর করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। তারা আরো জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে শিল্পাঞ্চলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেশি। রেজিস্ট্রি অফিস সেখানে স্থানান্তর করা হলে ক্রেতা বিক্রেতারা নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে।
দলিল লেখক রমজান হোসেন বলেন, রূপগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করলেও ভবন নির্মাণে নজর দিচ্ছে না। দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল বলেন, সুরকি পড়ে ইতিমেধ্যে আহত হয়েছে কয়েকজন। বহু আবেদন নিবেদন করেও কোন ফল হচ্ছে না। নকল নবিশ সভাপতি আফতাব উদ্দিন বলেন, চরম ঝুঁকি নিয়ে দুই শতাধিক নকল নবিশ সরকারি কাজ করছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় দলিল বালাম ও রেকর্ড বহিসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাখতে বিঘ্ন ঘটছে। সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল মালেক বলেন, চাহিদা অনুযায়ী এখানে ভবন নির্মাণ জরুরি। ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে।
মহাপরিদর্শক নিবন্ধন খান মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, রূপগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিস ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের জন্য আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেন, রূপগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসের ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই তা বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গত ১২ জুন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বলেন, শতবর্ষের পুরনো ও জরাজীর্ণ রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিস ভবনের অবস্থা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। শিগগিরই এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে বলে তিনি উপস্থিত নকল নবিশ ও দলিল লেখকসহ এলাকাবাসীকে আশস্ত করেন।
