পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের দেয়া প্রতিবেদনের ব্যাপারে লিখিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার সকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম এ প্রতিক্রিয়া জানান। প্রতিক্রিয়ায় দুদক জানায়, পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের ব্যাপারে দুদক এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পেলে দুদক আবুল হোসেনকে মামলার আসামি করবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষকরা তদন্ত করে যাওয়ার ছয় মাস পর গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে দেয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংক গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৈয়দ আবুল হোসেন তত্কালীন যোগযোগ মন্ত্রী থাকায় তাকেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় আসামি করা উচিত ছিল। এদিকে দুদক তাদের প্রতিক্রিয়ায় আরো জানিয়েছে, এ বিষয়ে দুদক বিশদ তদন্ত করছে। দুদকের প্রতিনিধি দল তদন্তের জন্য কানাডায়ও গেছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ‘দু’একদিন আগে বিশ্বব্যাংক ও অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা প্রতিবেদনটি পেয়েছি। এখানে তাদের কিছু আপত্তির কথা আছে। বিশেষ করে সৈয়দ আবুল হোসেন যোগাযোগ মন্ত্রী থাকায় তাকে মামলায় আসামি করা উচিত ছিল বলে বিশেষজ্ঞ প্যানেল মন্তব্য করেছে। আমরা তার জবাব দিয়েছি।’ দুদকের প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ায় আবুল হোসেনকে আসামি করা যায়নি।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিবেদন সম্পর্কে গোলাম রহমান মন্তব্য করে বলেন, ‘তাদের দাবি একটাই—এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়নি কেন?’
প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশন গত ১৭ ডিসেম্বর সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে সন্দেহের তালিকায় রেখে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। আসামিরা হলেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের, এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় এজেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালটেন্ট লিমিটেডের (ইপিসি) উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা, কানাডিয়ান কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, ওই কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ এবং কেভিন ওয়ালেস।
আসামির তালিকায় নাম না থাকলেও মামলার এজাহারে সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবুল হাসান চৌধুরীর বিষয়ে বলা হয়, সৈয়দ আবুল হোসেন এবং আবুল হাসান চৌধুরী ২০১১ সালের ২৯ মে এসএনসি লাভালিনের তিন কর্মকর্তা কেভিন ওয়ালিস, রমেশ সাহা, মো. ইসমাইল এবং ইপিএস’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফার সাথে ঢাকায় বৈঠক করেন। এছাড়া রমেশের নোটবুকে কাজ পাওয়ার পর পদ্মা প্রজেক্ট কমার্শিয়াল কস্ট (পিসিসি) হিসাবে কমিশন দেয়ার বিষয়টিতে সৈয়দ আবুল হোসেন এবং আবুল হাসান চৌধুরীসহ আরো কয়েকজনের নাম উল্লেখ ছিল। তবে এ দু’জনের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত পাওয়া অপরাপর সাক্ষীদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি বিধায় আসামি হিসেবে তাদের বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তাই তদন্তকালে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
