চিরনিদ্রায় আতিকুল হক চৌধুরী

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২২:৪৮
চিরনিন্দ্রায় শায়িত হলেন দেশের বর্ষীয়ান নাট্যকার ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। সোমবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে নাট্যব্যক্তিত্ব ও একুশে টেলিভিশনের উপদেষ্টা আতিকুল হক চৌধুরী রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রস্টেট ক্যান্সার, ডায়বেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গত শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে বরেণ্য এই নাট্য ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর সংবাদে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। নাট্যাঙ্গনের অনেকেই ছুটে আসেন শমরিতা হাসপাতালে। সেখানে আরেক নাট্যজন মামুনুর রশিদ প্রয়াতের পরিবারের পক্ষে সাংবাদিকদের তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এই নাট্যব্যক্তিত্বের মরদেহ তার সর্বশেষ কর্মস্থল একুশে টেলিভিশন ভবনে নিয়ে আসা হয়। একুশে পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে একুশে টেলিভিশন ভবনেই প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয় তার মরদেহ। এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ এই গুণী ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আতিকুল হক চৌধুরীর মরদেহ তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বিটিভিতে নেয়া হয়। সেখানে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সহকর্মীরা তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার উলানিয়া গ্রামের প্রসিদ্ধ জমিদারবাড়ির সন্তান। ১৯৩১ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে রেডিও পাকিস্তানে যোগ দেয়ার মাধ্যমে আতিকুল হক চৌধুরী কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে দীর্ঘ ১১ বছর শিক্ষকতা করেছেন। সর্বশেষ তিনি একুশে টেলিভিশনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আতিকুল হক চৌধুরীর রচিত ও প্রযোজিত কালজয়ী নাটকের মধ্যে ‘বাবার কলম কোথায়’, দুরবিন দিয়ে দেখুন’, ‘সার্কাস’, নীল নকশার সন্ধানে’, ‘নিঝুম দ্বীপের সন্ধানে’ উল্লেখযোগ্য। তার প্রযোজিত নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনের পর্দায় আসেন আবুল হায়াত, হুমায়ুন ফরিদী, শর্মিলী আহমেদ, কেয়া চৌধুরী, মিতা চৌধুরী, জুয়েল আইচ, আফরোজা বানু, মেঘনা, শম্পা রেজা, শমী কায়সার, সালমান শাহসহ অনেক গুণী অভিনেতা- অভিনেত্রী। শ্রেষ্ঠ নাট্য প্রযোজক হিসেবে তিনি ১৯৭৬ সালে জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা একাডেমী পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। আতিকুল হক চৌধুরী ছিলেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মহীরুহ বিরোধী দলীয় নেত্রীর শোকবার্তা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় নাট্যকার আতিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন । গতকাল মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, নাটক রচনা ও পরিচালনায় অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য মরহুম আতিকুল হক চৌধুরী দেশের মানুষের মনে চিরজাগরুক থাকবেন। মরহুম আতিকুল হক চৌধুরী সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক বিশাল মহীরুহ, যার বহুমুখী প্রতিভা শিল্প-সাহিত্য, গণমাধ্যম তথা দেশীয় সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলকে অনন্য মাত্রা দান করেছিল। অমর এই নাট্যকারের ইন্তেকালে দেশের সাংস্কৃতিক জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হবার নয় বলেও বিএনপি চেয়ারপার্সন উল্লেখ করেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যবর্গ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, ভক্ত, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। জাতীয় পার্টির (জেপি) শোক প্রকাশ আতিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুতে জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জেপি মহাসচিব বলেন, দেশের সংস্কৃতি জগতে আতিকুল হক চৌধুরী বিশেষ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশের নাট্যাঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণ হবার নয়। তিনি মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। জাতীয় পার্টি (জেপি)র অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী আতিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। বাংলা একাডেমীর সম্মানিত ফেলো আতিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলা একাডেমী গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোকবার্তায় বলা হয়, আতিকুল হক চৌধুরী ছিলেন নাট্যাঙ্গনের এক বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। বাংলা একাডেমী তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আতিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। জোটের ২৫১ জন নেতা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।