আর নির্বাচন করবেন না

পরাজয়ের জন্য হাসানাত দায়ী :হিরন

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২২:৪৯
কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে পরাজিত মেয়র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরন বলেছেন, তিনি আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। পরাজয়ের জন্য সরাসরি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে দায়ী করে হিরন কর্মী-সমর্থকদের বলেন, শীঘ্রই তিনি ঢাকায় গিয়ে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত্ করবেন। সেখানে হাসানাত নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন তার প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বরিশাল ক্লাবে আয়োজিত টেলিভিশন প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আয়োজিত এ সভায় শওকত হোসেন হিরন ছাড়াও বক্তৃতা করেন তার নির্বাচনী এজেন্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি কেবিএস আহমেদ কবির ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম। ১৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে দায়ী করলেন শওকত হোসেন হিরন। শওকত হোসেন হিরন তার বক্তৃতায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের হুঁশিয়ার করে বলেন, অনেক সহ্য করা হয়েছে। আর যদি আমার এক নেতা-কর্মীর গায়ে হাত তোলা হয় তাহলে আমরাও হাতটি ঘুরিয়ে ধরব। আমাদের শান্ত সুলভ আচরণকে দুর্বল ভাবা ঠিক হবে না। হাসানাতকে উদ্দেশ্য করে শওকত হোসেন হিরন বলেন, ‘ভাই আমার কি দোষ ছিলো আমি জানি না, কেনো আমাকে আপনি পরাজিত করলেন তাও আমার অজানা’। কর্মীদের উদ্দেশ্যে হিরন বলেন, আজ থেকে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ আর মহানগর আওয়ামী লীগের বা আমার রাজনৈতিক অভিভাবক নন। এখন থেকে আমার ও সংগঠনের রাজনৈতিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে রাজনৈতিক অভিভাবক মেনেই রাজনীতি করে আসছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের সময় তার আত্মীয়-স্বজন, ভাড়াটিয়া থেকে শুরু করে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান আনারস প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়েছে এমন প্রমাণ আমার হাতে রয়েছে। এতোকিছুর পর হাসানাতকে আর অভিভাবক মানা যায় না। পরে শওকত হোসেন হিরন কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে বরিশাল ক্লাব থেকে মিছিল করে দলীয় কার্যালয় আসেন। ঐ মিছিল থেকে হাসানাতের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়া হয়। মিছিল শেষে ইত্তেফাকের সাথে একান্ত আলোচনায় শওকত হোসেন হিরন বলেন, খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত্ করে নির্বাচনে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ভূমিকার কথা তুলে ধরব। আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না প্রশ্ন করলে শওকত হোসেন হিরন ইত্তেফাককে বলেন, হাসানাত জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। প্রয়োজনে দল থেকে পদত্যাগ করতেও প্রস্তুত রয়েছি।