সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিপুল জয়ের পর দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের দৃশ্যপট। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হারানো আধিপত্য ফিরে পেতে ভোটের রাত থেকে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে শিবিরকর্মীরা আবাসিক হলগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। তাদের হুমকিতে আবাসিক হল ছেড়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এছাড়া ক্যাম্পাসে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মোবাইলে হল ত্যাগ, অন্যথায় হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম উত্কণ্ঠায় রয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত সোমবার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান ও মহড়া দিয়েছে ছাত্রশিবির। এর আগে রাসিকের মেয়র পদে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিপুল বিজয়ে শনিবার মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে ককটেল ফাটিয়ে বিজয় উদযাপন করেছে ছাত্রশিবির। গত রবি ও সোমবার ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছাত্রদলও। রবি ও সোমবার ক্যাম্পাসের কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তবে আগের চেয়ে সংখ্যায় কম হলেও নিজেদের টেন্টে অবস্থান নিয়েছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিবদমান ছাত্রসংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি মহড়া ও অবস্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান মিলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাসিকের নতুন মেয়রের বিজয়ের পর থেকে প্রশাসনেও কিছুটা স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অজ্ঞাত কারণে ক্যাম্পাসে শিবিরের বিরুদ্ধে আগের মত ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্যাম্পাস পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কেউ যাতে পরিস্থিতি খারাপ করতে না পারে সেজন্য কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে।
এদিকে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আবারো সব ধরনের মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ, মাইকিং, ব্যানার, পোস্টারিং, প্রচারপত্র প্রচার ও বিতরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্র-হলসমূহে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কারো অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
