সাবেক স্পিকার ও এক সময়ের বিএনপি নেতা শেখ রাজ্জাক আলী রাজনীতিতে ফের ফিরছেন এ রকম গুঞ্জন থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে ছিলেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো মাঠে নামেন শেখ রাজ্জাক আলী। তিনি কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে গঠিত ‘সম্মিলিত নাগরিক কমিটির’ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। এ দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যদিয়ে তিনি খুলনার রাজনীতিতে আবারো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন। তালুকদার খালেকের পক্ষে দিনরাত নগরীর রূপসা থেকে ফুলবাড়ী গেট পর্যন্ত ওলিগলি দাপিয়ে বেড়ান।
রাজনৈতিক অঙ্গনে গুজব ছড়িয়ে পড়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে খুলনা সদর (খুলনা-সোনাডাঙ্গা) আসনে নির্বাচন করবেন। যদিও তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘আর নয়, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছি।’ কিন্তু তার এই কথা স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতাও বিশ্বাস করেননি। ফলে তারা তালুকদার খালেকের পক্ষে জোরালোভাবে নির্বাচনের মাঠে নামেননি। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর নিকট তালুকদার খালেকের বিশাল ভোটে পরাজয়বরণ করতে হয়েছে। এই পরাজয়ের জন্য দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পাশাপাশি শেখ রাজ্জাক আলীকেও দুষছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
সূত্র জানায়, শেখ রাজ্জাক আলী প্রথমে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), পরবর্তীতে জাসদ ও ১৯৭৮ সালে জাগোদল ও পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করেন। এই দল থেকে তিনি তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হন।
এ প্রসঙ্গে সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী বলেন, খুলনার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমি তালুকদার আব্দুল খালেককে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে সরকার বিরোধী অবস্থান, খুলনার আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল ও তালুকদার খালেকের ব্যক্তিগত কিছু আচরণের কারণেই তার পরাজয় হয়েছে।
