কয়েক বছর বিরতির পর আবারও জাহিদ হাসান ও রাখি জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করলেন আসছে ঈদের জন্য নির্মিত
একটি এক খণ্ডের নাটকে। নাটকটি পরিচালনাও করেছেন জাহিদ হাসান নিজেই। এই নাটক ও দুই অভিনয়শিল্পীর
অভিনয়ের নানা গল্প নিয়ে এবারের মূল ফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ
জাহিদ হাসান একজন আপাদমস্তক অভিনয়শিল্পী। আর তাই যদি না হয়, তাহলে কী করে বছরের পর বছর অভিনয় দিয়ে নিজেকে ধরে রেখেছেন জনপ্রিয়তার একই কক্ষপথে। আচ্ছা, দীর্ঘদিন ধরে আপনার এই যে একইরকম জনপ্রিয়তা—এর গোপন রহস্য কী? শুরুতেই এ রকম কঠিন প্রশ্নে জাহিদ হাসান তার চিরচেনা হাসি উপহার দিয়ে বলেন, ‘আসলে বিষয়টি তেমন কিছু নয়। আমি সবসময়ই চেষ্টা করেছি আমার কাজটাকে মনেপ্রাণে করতে। তবে এ কথা ঠিক আমি আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এটা চেয়েছি যে, আমার কাজ যেন অন্যদের সাথে না মিলে। যেমন—আমার কাছে অন্ধ চরিত্রে কাজের একটি স্ক্রিপ্ট এল। আমি যখন সেই চরিত্রে কাজ করব তখন আমার খেয়াল থাকে এই চরিত্রটি এমনভাবে উপস্থাপন করতে যা একটু ব্যতিক্রম মনে হয়। আমরা সচরাচর যে ধরনের অন্ধ মানুষ দেখে অভ্যস্ত, আমি তার বাইরের কিছু দেখাতে চেয়েছি। কাজ নিয়ে আমার এই ভাবনাই হয়তো আমাকে দর্শকদের কাছে এতদিন ধরে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করে রেখেছে। সত্যি বলতে কী, আমি না কখনও কাজকে ফাঁকি দিয়ে করিনি। আমি বিশ্বাস করি, কেউ যদি তার কাজকে ফাঁকি দেয়, তাহলে সে নির্দিষ্ট একটি সময়ের পর আর টিকে থাকতে পারবে না।’ কাজ নিয়ে জাহিদ হাসানের এই সচেতনতাই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সেই বিটিভি থেকে শুরু করে তিনি এখনও দাপটের সাথে অভিনয় করে যাচ্ছেন। দর্শকের কাছে তার অন্যান্য চরিত্রগুলোর পাশাপাশি কৌতুক চরিত্রগুলো বেশি আদরণীয়। তার বিখ্যাত কৌতুক চরিত্র ছিল হুমায়ূূন আহমেদ পরিচালিত নাটকে মফিজ নামক একটি পাগলের চরিত্র। জাহিদ হাসান অভিনীত দর্শকনন্দিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন’, ‘সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড’, ‘গৃহসুখ প্রাইভেট লিমিটেড’, ‘পথের দাবি’, ‘পৌষ ফাগুনের পালা’ প্রভৃতি। জাহিদ হাসান চলচ্চিত্রে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন ‘বলবান’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। এরপর অভিনয় করেন হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, মোস্তাফা কামাল রাজের ‘প্রজাপতি’সহ আরও কয়েকটি ছবিতে। একজন সফল অভিনেতার পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও জাহিদ হাসান সবসময় দর্শকদের কাছে নিজের কাজটাকে তুলে ধরতে চান একটু ভিন্নভাবে। আর তা এই ভিন্ন পথে হাঁটার চেষ্টা শুরু হয়েছে সেই ছোটবেলা থেকে। এটিএন বাংলায় প্রচারিত জাহিদ হাসান পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘হাতের রেখায়’ ও ‘টো টো কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড’ নাটকগুলো দর্শকনন্দিত হয়েছে। অন্যদিকে মিডিয়ার প্রতি রাখির আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। এই আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে না পারলেও নিজেকে সামলে রেখেছেন দীর্ঘ সময়। আর সুযোগের প্রহর গুনেছেন মনের লালিত স্বপ্নপূরণে নোয়াখালীর এই কন্যা। তাই ২০১০ সালে প্রতিভাময়ীদের তারকা হওয়ার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। নিজের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে রাখি শত শত তরুণীকে পেছনে ফেলে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তার ভাষ্যে, ‘লাক্সের অভিজ্ঞতা আসলে বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা হলো লাক্স। ওখানে গিয়েই আমি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করি। বিশেষ করে গ্রুমিং সেশনটা ছিল অনেক শেখার। আমার মনে হয়, লাক্স থেকে বের হয়ে কেউ এই অভিজ্ঞতা ভুলতে পারবে না। সত্যি বলতে কি, লাক্সের প্ল্যাটফর্মের জন্য আমাকে মিডিয়ার কাজ করতে সেভাবে স্ট্রাগল করতে হয়নি।’ লাক্স তারকার তকমা নিজের নামের সাথে যুক্ত হওয়ার পর তিনি নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করছেন আপন গতিতে। তার উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনচিত্রের মধ্যে রয়েছে—‘ক্লোজআপওয়ান টুথপেস্ট’, ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’, এলিট পেইন্টের ‘বৃষ্টির রঙ’, ‘সিলন টি’, ‘মেরিল লিপজেল’, ‘প্যারাসুট হেয়ারঅয়েল’ প্রভৃতি। শুধু মডেলিং নয়, অভিনয়েও বেশ দক্ষ এই লাক্স সুন্দরী। তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে—এজাজ মুন্নার পরিচালনায় ধারাবাহিক ‘জেনারেশন নেক্সট’, তাহের শিপনের ‘বিবাহিত ব্যাচেলর’, সকাল আহমেদের ‘টার্মিনাল’ এবং এক খণ্ডের নাটক খলিলুর রহমান শাওনের পরিচালনায় ‘দোস্ত দুশমন’, সকাল আহমেদের পরিচালনায় ‘সংসার’, মিঠু বিশ্বাসের ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিচ্ছেদ’, সাইফুল আলম মান্নুর ‘ফর গিভ মি’, জামাল মল্লিকের ‘সত্যি বলছি আমি চান্দু মিয়া না’, শাহীন কবির টুটুলের ‘হোন্ডা মাসুদ’, রাকিবুল ইসলামের ‘সমস্যা’, জুবায়ের ইবনে বকরের ‘নাটক হিট’ প্রভৃতি। এখন তার ব্যস্ততা ঈদের নাটক নিয়ে। কয়েক বছর বিরতির পর আবারও জাহিদ হাসান ও রাখি জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করলেন আসছে ঈদের জন্য নির্মিত একটি এক খণ্ডের নাটকে। ‘ইমোশনাল আব্দুল মতিন’ নামের এই নাটকটি পরিচালনাও করেছেন জাহিদ হাসান নিজেই। এতে আরও যারা অভিনয় করেছেন তারা হলেন তন্ময়, তারেক স্বপন, মোমিন বাবুসহ সিরাজগঞ্জের স্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন অভিনেতা। নাটকের গল্প ভাবনা জাহিদ হাসানের নিজের। সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান। এই নাটক প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান বলেন, ‘মূলত গল্পের কারণেই এই সময়ে আমি সিরাজগঞ্জে শুটিং করি। আগে পূবাইলে করতাম। কিন্তু ফ্রেম ধরলেই বুঝা যায় যে এটা পূবাইল। তাছাড়া আমার জন্মস্থান যেহেতু সিরাজগঞ্জ তাই এলাকার ছেলে হিসেবে আমার এলাকাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলা আমারই তো দায়িত্ব। তাই শুটিং সিরাজগঞ্জেই করি।’ আবারও রাখিকে নাটকে নেওয়া প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান বলেন, ‘রাখি নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে বেশ সম্ভাবনাময়। অনেক কষ্ট করে রাখি আজকের এই অবস্থানে এসেছে। কাজের প্রতি একনিষ্ঠতা তার আছে। তার ভবিষ্যত্ অনেক ভালো। তার সাথে এটি আমার দ্বিতীয় কাজ। দর্শকের ভালো লাগবে।’ আর লাক্সতারকা রাখি বলেন, ‘জাহিদ ভাই অনেক গুণী এবং উঁচু মাপের একজন অভিনেতা। তার সাথে অভিনয় করতে পারাটা আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের। তিনি অনেক কো-অপারেটিভ। অনেক ভালো লেগেছে নাটকটিতে অভিনয় করে।’ ‘ইমোশনাল আব্দুল মতিন’ নাটকটি আগামী ঈদে বাংলা ভিশনে প্রচার হবে। উল্লেখ্য, এর আগে একজন লাক্সতারকা হিসেবে মিডিয়াতে যাত্রা শুরুর পরপরই রাখি জাহিদ হাসানের নির্দেশনায় ‘পোর্ট্রেট’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন।
