‘ডার্টি পিকচার’, ‘কাহানি’ এবং বিয়ে শাদি। এরপর আরও বেশকিছু সময় পেরিয়ে গেছে। এই পেরিয়ে যাওয়া কিছু সময়টাতে বিদ্যা বালানকে সিনেমার পর্দায় দেখা যায়নি। কোনো ছবির নায়িকা সেজে পর্দায় উপস্থিত না হলেও মাঝখানে একটি ছবিতে আইটেম সঙে পারফর্ম করতে দেখা গেছে। সিনেমার পর্দায় ‘কাহানি’র পর তাকে তেমনি চ্যালেঞ্জিং জটিল অসাধারণ চরিত্রে আরও দেখার ব্যাপারে দর্শকদের উত্সাহ ঝরে পড়লেও বিদ্যা তখন স্বামীর সঙ্গে হানিমুন মুডে কিছুটা রিলাক্স সময় পার করেছেন। এর মধ্যে তার অভিনীত আরেকটি নতুন ছবি ‘ঘনচক্কর’ মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে। এখানেও বিদ্যা আসছেন ভিন্ন ধাঁচের এক নারী চরিত্রে। এ ছবিতেও মনপ্রাণ উজাড় করে অভিনয় করেছেন তিনি। ফলে বিদ্যাকে নিয়ে আবার আলোচনা জমে উঠেছে। বিদ্যার ক্যারিয়ার এবং ঘর-সংসার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
হিন্দি সিনেমার নায়িকা চরিত্র অনেক বদলে গেছে। এখন নায়িকা মানেই লাজ-নম্র, সতী-সাবিত্রী, রোমান্টিক নারী নয়। বলিউডের সিনেমায় নায়িকা চরিত্রে নানা বৈচিত্র্যের চমক লক্ষ করা যাচ্ছে গত বেশ অনেকদিন ধরেই। আগামী সপ্তাহে মুক্তিপ্রতীক্ষিত ‘ঘন চক্কর’ ছবির নায়িকা নীতু চরিত্রটির কথাই ধরা যাক। যার স্বামী সঞ্জুু চুরি-ডাকাতি ইত্যাদির কাজ থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়েছে কিছুদিন আগে। অবসর গ্রহণের আগে শেষ বারের মতো সে একটি ব্যাংক ডাকাতি করে দুই দুধর্ষ সঙ্গীকে নিয়ে। ব্যাংক ডাকাতির টাকা-পয়সা দিয়ে বাকি জীবন নির্বিঘ্নে কেটে যাবে ভাবলেও বিপত্তি বাধে যখন তার অপর দুই সঙ্গী ডাকাতির টাকার ভাগ নিতে আসে। সঞ্জু তাদেরকে চিনতেই পারে না, ডাকাতির টাকা কোতায় রেকেছে সঞ্জুু কোনো ভাবেই মনে করতে পারে না। কোনো দুর্ঘটনায় সে তার অতীত স্মৃতি সব হারিয়ে ফেলেছে উপলব্ধি করে দুই সঙ্গী ডাকাতির টাকার হিস্যা নিতে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা সঞ্জুু এবং তার মুখরা, চটুল স্বভাব এবং উদ্ভট রুচির বউ নীতুর সঙ্গে তাদের বাড়িতে থাকতে শুরু করে। লোক দুটো সঞ্জু ও তার বউ নীতুকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে ব্যাংক ডাকাতির লুকিয়ে রাখা টাকা বের করে দিতে। কিন্তু বেচারা সঞ্জু কিছুতেই মনে করতে পারে না টাকাগুলো আসলে সে কোথায় রেখেছিল। এ নিয়ে ঘটতে থাকে মজার সব সাসপেন্সপূর্ণ ঘটনা। ‘ঘনচক্কর’ ছবির গল্প দর্শকদের এভাবে টেনে নিয়ে যাবে পরিণতির দিকে। এ ছবিতে অবসর গ্রহণকারী ব্যাংক ডাকাতের স্ত্রী নীতু চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা বালান। ‘ডার্টি পিকচার’-এর পর ইমরান হাশমির বিপরীতে আবার জুটি বেঁধে আসছেন তিনি। এখানে নীতু চরিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ট্র্যাকের। স্থূলকায়া, মুখরা, উদ্ভট রুচির সাজ-পোশাকে সজ্জিত নীতুকে দেখে দর্শক চমকে উঠলেও পুরো ছবিজুড়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখবে এই পাঞ্জাবি গৃহবধূ চরিত্রটি। হিন্দি সিনেমার দর্শক আজকাল নায়িকা চরিত্রে নানা চমক দেখছেন। এ ক্ষেত্রে নীতু চরিত্রটি দর্শকদের জন্য মজাদার চমক হিসেবে বিবেচিত হবে। আর এ চরিত্রটিকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন বিদ্যা বালান। এতদিন দর্শক তাকে বিভিন্ন ছবিতে যেভাবে দেখে আসছেন তারচয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটি কমেডি ধাঁচের চরিত্রে তাকে দেখা যাবে আলোচ্য ‘ঘনচক্কর’ ছবিতে। দর্শক নীতু চরিত্রে তার কথাবার্তা, কাণ্ডকীর্তি, বিচিত্র সাজ-পোশাক, খিস্তি খেউর ইত্যাদি দেখে এবং শুনে রীতিমতো চমকে উঠবেন। যা সবার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হবে সন্দেহ নেই। এমন নারী চরিত্র আমাদের চারপাশে অনেক দেখা গেলেও সিনেমার পর্দায় নায়িকা হিসেবে এর আগে দেখা যায়নি। তেমন একটি চরিত্র রূপায়নের ব্যাপারে অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের আন্তরিকতা এবং সিরিয়াসনেস ‘ঘনচক্কর’ ছবির পরিচালক রাজকুমার গুপ্তকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। এই পরিচালকের আগের ছবি ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’য় অন্যতম প্রধান চরিত্রে বিদ্যা অভিনয় করেছিলেন। ‘পা’, ‘ইশকিয়া’, ‘ডার্টি পিকচার’, ‘কাহানি’—গত কয়েক বছরের অভিনীত ছবিগুলোতে একের পর এক অসাধারণ অভিনয়ের চমক দেখানোর পর এবার ‘ঘনচক্কর’-এ কমেডি অভিনয়ের মজার চমক নিয়ে আসছেন বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী বিদ্যা। ‘নীতু চরিত্রটি রূপায়ন আমার জন্য চমত্কার মজার অভিজ্ঞতা সন্দেহ নেই। আমি দারুণ উপভোগ করেছি। যখন আমাকে ‘ঘনচক্কর’ ছবির স্ক্রিপ্টটি পড়তে দেওয়া হয়েছিল একটু পড়েই আমি অনুভব করেছিলাম এ ছবিটি আমার অভিনয় জীবনে নতুন আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা করবে। কারণ এতদিন আমি বিভিন্ন ছবিতে সিরিয়াস, সাধারণ, রোমান্টিক নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও নীতু চরিত্রটিতে কমেডির অনেক উপাদান রয়েছে। আমি প্রাণপণে চেষ্টা করেছি এ চরিত্রের সাথে মিশে যেতে। এ জন্য শরীরের ওজন বাড়িয়েছি, বিচিত্র ডিজাইনের রঙচঙা জামা-কাপড় পরেছি, খিস্তি-খেউর করেছি। সব মিলিয়ে মুখরা এক পাঞ্জাবি তরুণী গৃহবধূর স্বরূপে হাজির হয়েছি। ফলে ‘ঘনচক্কর’ আমার জন্য একটি স্পেশাল মুভি হয়ে উঠেছে’, বিদ্যা বলেন।
এ ছবিটিতে অভিনয়ের আগে বিদ্যা বালান প্রখ্যাত প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেছেন। বিয়ের পর বলিউডের ‘সিরিয়াল কিসার’ হিসেবে পরিচিতি ইমরান হাশমির সঙ্গে তার স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করতে গিয়ে তেমন কোনো বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছিলেন কি না জানতে চাইলে বিদ্যা হাসতে হাসতে বলেন, ‘ইমরান হাশমির সঙ্গে আগে ‘ডার্টি পিকচার করেছি, তার সঙ্গে তো আমি নতুন নই। এখানে আমরা স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছি, এ জন্য যা করার তাই করেছি। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের প্রয়োজনে যা করেছি তা মন খুলে করেছি, বিব্রতবোধ করিনি। এ ছবির অন্যতম প্রযোজক আমার স্বামী সিদ্ধার্থ, সে তো দেখেছে সব। অভিনয় তো অভিনয়ই। ‘ঘনচক্কর’-এর প্রমো দেখে আমার শ্বশুর বাড়ির সবাই, আমার বাবা-মা সবাই বেশ আনন্দলাভ করেছে। আমার সাজ পোশাক অভিনয়ের ধরন ইত্যাদি দেখে তারা তো হেসে কুটিকুটি। ব্যাপারটা আমাকেও অনেক আনন্দ দিয়েছে।’
বিদ্যা বালান বিয়ের পর স্বামী, সংসার, শ্বশুর-শাশুড়ি-দেবরদের নিয়ে চমত্কার সময় পার করছেন। তার দুই দেবর কুনাল রায় কাপুর ও আদিত্য রায় কাপুরও অভিনেতা। দেবর আদিত্য অভিনীত ‘আশিকি’ হালে বলিউডে খুব আলোড়ন তুলেছে।
‘পরিণীতা’ ছবি দিয়ে যাত্রা শুরুর পর এতদিন বিভিন্ন সিনেমায় নিজেকে বিচিত্ররূপে উপস্থাপন করে দর্শকদের কাছে একজন অভিজাত অভিনেত্রী হিসেবে গণ্য হচ্ছেন বিদ্যা। কিন্তু ‘ঘনচক্কর’-এ দর্শক তাকে অদ্ভুত ডিজাইনের রঙচঙা সাজপোশাকে দেখে হোঁচট খাবেন। ‘এ ছবিতে আমি আমার লুক নিয়ে বেশ খুশি, কারণ এখানে আমার চরিত্রটি নানা বর্ণে রঞ্জিত। তা কারও কাছে কটু কিংবা উত্কট মনে হতে পারে। নীতু চরিত্রটি যেমন তার লুকও তেমন হওয়াটা স্বাভাবিক। তার কোনো ফ্যাশন সেন্স নেই। শপিং মলে গেলে কাপড় দেখে সেগুলো অনেক বেশি দামি বলে এর চেয়ে মহল্লার দর্জিকে দিয়ে সেলাই করে নেওয়া অনেক ভালো ভেবে চলে আসে। তাহলেই বুঝুন কেমন ধরনের মহিলা সে’, ‘ঘনচক্কর’-এ নিজের অভিনীত চরিত্রটি সম্পর্কে এভাবেই বর্ণনা দেন তিনি।
বিদ্যার দাম্পত্যজীবন কেমন কাটছে? তেমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিবাহিত জীবনটা বেশ উপভোগ করছি, বিয়ের কারণে আমার অভিনয়ে কোনো ছন্দপতন ঘটেনি। আগামীতেও ঘটাবে না আশা করি। যেকোনো ধরনের চরিত্রে আগের মতো অভিনয় করে যেতে পারব মনে করি। আমার স্বামী বেশ সহযোগী মনোভাবের মানুষ। বিয়েটা অনেকের ক্যারিয়ার প্রভাব ফেললেও আমার ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। আমাকে প্রধান চরিত্রে কাস্ট করে একটি নতুন ছবি নির্মাণের আয়োজন করেছে আমার স্বামী, যার কাজ শুরু হচ্ছে শিগগির।’
আরেকটি ‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এ অভিনয়ের অফার পেলে তাতে রাজি হবেন কি না প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে। জবাবে বিদ্যা বালান বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি করব। বোল্ডনেসের সংজ্ঞা বা স্বরূপ ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ছবিতেই সীমাবদ্ধ নয়, ‘ঘনচক্কর’ও একটা বোল্ড ছবি সন্দেহ নেই। এখানেও আমি বেশ সাহসী হয়েছি। সাধারণ চরিত্রের মধ্যেই আমি অসাধারণত্বের বৈশিষ্ট্য দর্শকদের চমকিত করছে যদি আরেকটি ‘ডার্টি পিকচার’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব করার পর হয়তো আমি তাতে অভিনয় করব।’ ‘ঘনচক্কর’ শেষে বিদ্যা বর্তমানে নতুন ছবি ‘শাদি কে সাইড এফেক্টস’ ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। অথবা বাড়িতে বসে সময় নষ্ট করতে রাজি নন তিনি। বিয়ের পর অনেক দায়দায়িত্ব বেড়েছে, তারপরেও অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে আরও এগিয়ে নিতে চান বিদ্যা বালান।
