বৈচিত্র্যময় কাজের জন্য তিনি অল্প সময়েই দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। ক্যারিয়ারের দশ বছরে নির্মাণ করেছেন বেশ কিছু দর্শকনন্দিত নাটক। বলছি, সবার প্রিয় নাট্যপরিচালক আল হাজেনের কথা। বর্তমানে তার নির্মিত দুইটি ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে। তার নাট্যজীবনের কথামালা নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ
তার নাটকের নাম যেমন সুন্দর, তেমনি সুন্দর তার নাটক। আর নির্মাণশৈলীতে চমক থাকার কারণে নাটকগুলো সহজেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দর্শকদের কাছে। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটক দিয়েই তিনি জয় করেছেন দর্শকের হূদয়। পরিচালনায় আসার নেপথ্যের গল্প জানতে চাইলে আল হাজেন মৃদু হাসলেন। কয়েক সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে খুলে বসলেন তার কথার ঝাঁপি। তার ভাষ্যে, ‘নাটকের প্রতি আমার ভালোবাসা তৈরি হয় ছেলেবেলাতেই। স্বপ্ন দেখতাম নাটক নির্মাণের। ১৯৯৭ সালে এই স্বপ্নগুলো যেন একটা পথ খুঁজে পায়। জননন্দিত নাট্যপরিচালক কায়সার আহমেদের সহকারী হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্য হয়। তার সাথে দীর্ঘ দশ বছর কাজ করে নাটক নির্মাণের কলাকৌশল আয়ত্ত করি। এরপর ২০০৪ সালে নিজেই নাটক নির্মাণ শুরু করলাম। আমার প্রথম নাটকটির নাম ‘দশ হাজার এক টাকা’। হাস্যরসে ভরপুর এই ধারাবাহিক নাটকটি দর্শক মহলে যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছিল। আর এই প্রেরণা নিয়েই এখনও নাটক নির্মাণ করে চলেছি।’ তার পরিচালিত বেশ কিছু নাটক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘শিয়ালপণ্ডিত’, ‘মামার বিয়ে’, ‘কুইক ম্যারিজ’, ‘পাতাপরী’, ‘পড়শীবাড়ি’, ‘পাথরের কান্না’ প্রভৃতি। মজার বিষয় হচ্ছে, তার নির্মিত সবগুলো নাটকই ধারাবাহিক, একখণ্ডের কোনো নাটক তিনি নির্মাণ করেননি। কেন? আল হাজেনের সরল স্বীকারোক্তি, ‘আসলে এক খণ্ডের নাটকের নির্মাণ ব্যয়ের সাথে আমি তাল মেলাতে পারি না। হয়তো এটা আমারই ব্যর্থতা। তা ছাড়া আরও একটি নিজস্ব যুক্তি আমার আছে, সেটা হচ্ছে—একটা গল্প ভালোভাবে বলার জন্য একখণ্ডের নাটকে তেমন স্পেস পাওয়া যায় না, যা আমি ধারাবাহিক নাটকে পাই।’ এ সূত্র ধরেই তিনি আরও জানালেন, ‘গল্পই হচ্ছে নাটকের প্রাণ। একটি ভালো গল্পই হলো একটি ভালো নাটকের মূল রসদ। তাই সবসময় এ বিষয়টিই আমার কাছে প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে। এরপর আমি মনোযোগ দিই নাটকের পাত্রপাত্রী নির্বাচনে। কারণ, নাটকে গল্পকে ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে সুঅভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপরই নির্ভর করতে হয়।’ নাটকের পাশাপাশি তিনি কিছু বিজ্ঞাপনও নির্মাণ করেছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সোয়ান টিভি, সোয়ান ফ্রিজ, ভিডিও ডোরবেল। বর্তমানে দুইটি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার দুইটি ধারাবাহিক। এগুলো হলো—বাংলাভিশনে ‘দুই টাকার বাহাদুরি’ ও আরটিভি ‘অলসপুর’। আর নির্মাণ করছেন ‘ভবঘুরে’ ও ‘চাঁন্দের গাড়ি’ নামের দুইটি ধারাবাহিক। নিজের নাটক নির্মাণ সম্পর্কে আল হাজেন বলেন, ‘নাটক নির্মাণের বিষয়টি আমি এনজয় করি। আর যতদিন এই এনজয়টা থাকবে ততদিনই নির্মাণের চেষ্টা করে যাব। নির্মাণ নিয়ে আমার মনের স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি। এখনও মনে হয় ভালো কিছু নির্মাণ করতে পারিনি। সামনের দিনগুলোতে চেষ্টা করব ভালো কিছু দর্শকদের উপহার দিতে।’ সবশেষে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক পরিচালক আছেন, যাদের নাটক আমার কাছে সেভাবে আকর্ষণ করে না। তাদের নাটকের ভাষা, ভঙ্গি, চরিত্র নিয়ে আমার আপত্তি আছে। আমার মনে হয়, তারা বাংলা নাটকের দর্শকের রুচি নিয়ে প্রতারণা করছেন। এ বিষয়টি নিয়ে নাটক্যার ও নির্মাতাদের সচেতন থাকতে হবে।’
