‘ইন পারসুট অব হ্যাপিনেস’ অনেক দর্শকেরই প্রিয় ছবির তালিকায় আছে। সিনেমাটিতে ‘মেন ইন ব্ল্যাক’খ্যাত উইল স্মিথের দুর্দান্ত অভিনয় ভোলার মতো নয়। সেই সিনেমায় আরও ছিল তার ছেলে জ্যাডেন স্মিথ। সম্প্রতি বাবা-ছেলে আবারও দর্শক মাতাতে এসেছেন সায়েন্স ফিকশন মুভি ‘আফটার আর্থ’ নিয়ে। ছবিটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
‘ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে’, ‘মেন ইন ব্ল্যাক’, ‘হ্যানকক’, ‘আই অ্যাম লিজেন্ড’ এবং ‘ইন পারসুট অব হ্যাপিনেস’ দিয়ে দর্শকদের মনে সুন্দর এক টুকরো জায়গা করে নিয়েছেন উইল স্মিথ। দুর্দান্ত অভিনয় ক্ষমতা দিয়ে পেয়েছেন আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা। তার সেই জনপ্রিয়তার স্রোতে গা ভাসাতে যোগ দিয়েছেন তার ছেলে জ্যাডেন স্মিথ। পিতা-পুত্র এর আগে ২০০৬ সালে ‘ইন পারসুট অব হ্যাপিনেস’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। ছবির গল্পটি ছিল এক সংগ্রামী বাবাকে নিয়ে। যেভাবেই হোক যাকে একটা চাকরি জোগাড় করতে হবে, নইলে সংসার চলবে না বাবা-ছেলের। স্ত্রী ছেড়ে চলে গেছে অনেক আগে। কোথাও কাজ নেই। একসময় বাড়ি থেকেও বের করে দেওয়া হয় তাদের। পথে পথে ঘুরতে থাকে বাবা আর ছেলে। শেষ পর্যন্ত রাত কাটাতে হয় পাবলিক টয়লেটের ভেতরে।
এখনও ‘ইন পারসুট অব হ্যাপিনেস’ সিনেমার গল্প শোনা যায় অনেকের মুখে। বাবা-ছেলের দুর্দান্ত অভিনয় এখনও ভুলতে পারেনি দর্শক। অনেক বছর পর আবার জুটি বাঁধলেন বাবা-ছেলে। তবে এবার কোনো মর্মস্পর্শী গল্প নিয়ে নয়, তারা এবার একসাথে পর্দায় আসছেন সায়েন্স ফিকশন সিনেমা নিয়ে। ‘আফটার আর্থ’ নামের এই সায়েন্স ফিকশন ছবির পরিচালক নাইট শায়ামালান। সিনেমায় দেখা যায়, উইল স্মিথ একজন নভোচারী, যে কিনা তার ছেলেকে নিয়ে মহাকাশে এক্সপ্লোর করতে এসে দুর্ঘটনায় পড়ে। ফলে তাদের স্পেসশিপ ক্রাশ ল্যান্ডিংয়ে বাধ্য হয় আমাদের এই পৃথিবীতে। তবে সেই পৃথিবীতে কোনো মানুষ ছিল না। মানুষ এই বসবাসের অযোগ্য দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে ১০০০ বছর আগেই! তারা স্পেসশিপ থেকে পৃথিবীকে খুঁজে পায়। পৃথিবীর খুব কাছে এসে তাদের স্পেস শিপটিও ধ্বংস হয়ে যায়। পিতা-পুত্র আশ্রয় নেয় এক হাজার বছর আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পৃথিবীতে। এভাবেই এগোতে থাকে সিনেমার গল্প। শ্বাসরুদ্ধকর অ্যাকশন দৃশ্যে ভরপুর এই মুভিটির ট্রেইলারে জ্যাডেনকে ‘ক্যারাটে কিড’ মুভির চেয়ে বেশ বড়ই মনে হয়েছে।
পরিচালক শায়ামালান এর আগে আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবি পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে ‘দ্য সিক্সথ সেন্স’ এবং ‘দ্য লাস্ট এয়ারবেন্ডার’ উল্লেখযোগ্য। তরুণ জ্যাডেন স্মিথ এর আগে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে ‘দ্য ডে দ্য আর্থ স্টুড স্টিল’ এবং জ্যাকি চ্যানের সঙ্গে ‘দ্য ক্যারাটে কিড’ উল্লেখযোগ্য।
তবে শুধু অ্যাকশনই আছে এই মুভিতে, এমনটা ভাবা ঠিক না। বাবা-ছেলে যে মুভির প্রধান দুই ক্যারেক্টার সেখানে তাদের অসাধারণ ক্যামেস্ট্রি না থেকেই পারে না। জ্যাডেন এই ব্যাপারে জানান, মুভিটির অ্যাকশন দৃশ্যের চেয়ে এই আবেগঘন দৃশ্যগুলো করাই তাদের জন্য কঠিন ছিল। কারণ বাবা-ছেলে উভয়েই চাচ্ছিলেন এই দৃশ্যগুলো যেন ‘ইন পারসুইট অব হ্যাপিনেস’-এর চেয়ে আবেগঘন ও মনে রাখার মতো হয়।
্উইল স্মিথ সম্পর্কে কিছু কথা
‘মেন ইন ব্ল্যাক’খ্যাত হলিউডি অভিনেতা হওয়ার আগে গানের জগতের মানুষ ছিলেন উইল স্মিথ। অভিনয়ের ব্যস্ততার কারণে ২০০৫ সালের পর কোনো অ্যালবাম প্রকাশ করেননি তিনি। গান দিয়েই স্মিথ তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। বাল্যবন্ধু জেফরি টাউনসের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন হিপ-হপ ব্যান্ডদল ‘ডিজে জ্যাজি জেফ অ্যান্ড দ্য ফ্রেশ প্রিন্স’। সে সময় স্মিথকে সবাই ‘ফ্রেশ প্রিন্স’ নামেই চিনতেন। স্মিথের সর্বশেষ অ্যালবাম বের হয়েছিল ২০০৫ সালে। অ্যালবামটির নাম ছিল ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’।
