দীর্ঘ আট মাস পর গতকাল বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার উপরে। বাজেটকে কেন্দ্র করে শেয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত কয়েকদিন ধরে বাজারে সূচক ও লেনদেন বাড়তে শুরু করে। গত ৬ মে ডিএসই’র ব্রড সূচক ছিল ৩ হাজার ৪৭২ পয়েন্ট। আর লেনদেন ছিল ১০৭ কোটি টাকা। আড়াই মাসের ব্যবধানে বাজারের দৈনিক লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সূচক দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৫৯ পয়েন্টে।
আইডিএলসি’র দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯শ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদনের খবরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল দিনের শুরু থেকেই সূচকের ধারায় বড় অগ্রগতি দেখা যায়। বাজারে দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল জ্বালানি খাত। এছাড়া জীবন বীমা খাত ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের কোম্পানিগুলোরও দর বেড়েছে ৪ শতাংশের উপরে। লেনদেনের ক্ষেত্রে গতকাল শীর্ষে ছিল জ্বালানি খাত। এ খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ২০ শতাংশের উপরে।
তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ২৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মূল্যসূচক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৭৭ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৭২ কোটি ২৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ২২৩ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৯২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৮টির, কমেছে ১১৯টির এবং অপরিবর্তীত রয়েছে ২৫টির।
এদিকে শেয়ার বাজারে শর্তহীনভাবে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়। বিনিয়োগকারী মিজানুর রশিদ বলেন, ২০১০ থেকে ২০১৩ অর্থ বছরে অপ্রদর্শিত অর্থ নিয়ে অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুদক ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের বিভিন্ন ধরনের কথার কারণে এই অর্থ দেশে বিনিয়োগ না হয়ে দেশের বাহিরে পাচার হয়ে গেছে। তাই বাজারের স্বার্থে এ সুযোগ পুনরায় দেয়া দরকার। কোম্পানি আইন সংশোধন করে বাইব্যাক আইন পাস এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিএসইসি কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের পূর্ণ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তিনি।
