মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম চালু হবে প্রতি উপজেলায়

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৩, ২১:১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হতদরিদ্র মায়েদের গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার ‘মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম’ চালু করেছে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস ২০১৩’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো বলেন, প্রায় ২ বছর আগে শুরু এই কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক পর্যায়ে ২০টি করে উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হবে। মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিমে ইতিমধ্যে ৫৩ উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং শিগগিরই আরো ২০ উপজেলা এর আওতায় আসবে। তিনি বলেন, মাতৃত্ব সেবাসহ স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও এখনও প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ১৯৪ জন মায়ের মৃত্যু হয়। শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যু প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ১৪৩, নবজাতকের মৃত্যু প্রতি হাজারে ২০-এ নামিয়ে আনা এবং দক্ষ হাতে প্রসবের হার ৫০ ভাগে উন্নীত করার কর্মসূচি বাস্তবায়নকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে উল্লে¬খ করে বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের মধ্যে ৩ হাজার মিডওয়াইফ তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৫৯৬ জন নার্স ৬-মাস মেয়াদী মিডওয়াইফারি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তিন বছর মেয়াদী মিডওয়াফারি কোর্সও চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এই কোর্সে ৪৩০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা, স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং নীতি নির্ধারকদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা এবং সকল পর্যায়ে জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, তাঁর সরকার মায়েদের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করেই ১৯৯৭ সালে প্রতিবছর ২৮শে মে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়। মাতৃস্বাস্থ্য, নিরাপদ প্রসব ও পুষ্টি সম্পর্কে মা, পরিবার ও সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ চলছে। এর ফলে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচকের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। দেশের মানুষের গড় আয়ু ২০০৮ সালের ৬৬ দশমিক ৮ বছর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৬৯ বছর হয়েছে। এছাড়া জন্মহার হ্রাস, বিয়ের বয়স বৃদ্ধি, নারী শিক্ষার বিস্তার, জরুরি প্রসূতি সেবার সমপ্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন, যোগাযোগের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা: আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা ডা: সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুজিবুর রহমান ফকির, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম আমির হোসেইন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক খন্দকার মোহাম্মাদ শেফায়েতুল্ল¬াহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়টির সচিব এম এন নিয়াজ উদ্দিন। ইএনটি ইনস্টিটিউট উদ্বোধন:এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তেজগাঁওয়ে ইএনটি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল উদ্বোধন করলে এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত এই হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করে। কর্মকর্তারা জানান, ১২ তলাবিশিষ্ট এই ইনস্টিটিউট ভবনটির আটতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।